ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কেশবা মাদরাসা ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূল ঠিকাদারের থেকে হাত বদলের পর চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এর নির্মাণ কাছে। মাঝখানে করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর আবারও নির্মাণ কাজ শুরু হলে সামনে আসে অনিয়মের ব্যাপারটি।
উপজেলার সকল মাদরাসার ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে এই মাদরাসাটি ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার্থী বেশি হওয়ায় কারিগরি শিক্ষা বিভাগের বাস্তবায়নে ও নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চারতলার একটি ভবন নির্মাণে তিন কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে কাজটি পান দিনাজপুরের মা এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি হাত বদলে ভবনের কাজ শুরু করে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মেসার্স শাহিন এন্টারপ্রাইজ। তিনি দুই কোটি ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা ৮৭ পয়সায় কাজটি করছেন। নির্মাণ কাজটি ১৮ মাসের মেয়াদে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শুরু করেন। করোনার কারণে বন্ধ থাকার পর পুনরায় কাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগ উঠে, কাজের শুরুতেই প্রথম তলার ছাদ ঢালাইয়ের নিম্নমানের বালু, ইটের খোয়া এবং মান সম্মত সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ফলে ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের একদিনের মাথায় সমস্ত খোয়া বের হয়ে পড়ে। এমনকি গ্রেট বিমও হেলে পড়ে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারকে সাহসজুগিয়ে নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ দিয়ে ফায়দালোটার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কেটে ফেলা দুটি হরিণের মাংস ও শিকারীদের নৌকা জব্দ
কেশবা ফাজিল মাদরাসার সুপার জালাল উদ্দিন অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, অনিয়মর বিষয়টি তাৎক্ষনিক তদারকি কর্মকতার্কে অবহিত করেছি।
এদিকে মাদরাসা ভবনের এই ঘটনায় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও মাদরাসার ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম স্বপন বলেন, উন্নয়ন কাজে কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এমন কথা তিনি কেন বললেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।
ঠিকাদার শাহিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, কাজে একটু উনিশ-বিশ হতে পারে, এটা কোনো বিষয় না।
নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ভবন নির্মাণের তদারকি কর্মকর্তা লতিফুর রহমান লিখন বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের একটি কলামের অ্যালাইনম্যান্ট ঠিক না থাকার কারণে সেটি ভেঙে ফেলে নতুন করে কলাম নির্মাণ করা হয়েছে।
রবিবার নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নিবার্হী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন কেশবা মাদ্রাসার চারতলা ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাজটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসি
