গৌরীপুরে ‘বন’ নামে পরিচিত খড়ের দাম ধানের চেয়ে বেশি!

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০৫

গৌরীপুরে গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত খড়ের দাম বেড়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে ‘বন’ নামে পরিচিত এই খড় যা ধানের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে খড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ কৃষক ও খামারি বিপাকে পড়েছে গোখাদ্য নিয়ে। সাধারণত খড় আঁটিপ্রতি বিক্রয় হয় দুই টাকায়। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় কাঁচা ধান কেটে খড় বিক্রি করছে ধানের দামের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ গুণ বাড়িয়ে। একেকটি এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের কাঁচা খড়ের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায়।

এতে করে ধানের সম্ভাব্য উত্পাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুই সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে এমন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও শুকনো খড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে ও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খড় ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, প্রায় বছর জুড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে নিজেদের খড়ের গাদা (বনের পুঞ্জ, কেউ কেউ বনের গোলাও বলে থাকেন) পচে-গলে গেছে। এখন গরু-বাছুরের খাবার সংকটের মধ্যে রয়েছি। বিভিন্ন এলাকার তথ্যানুযায়ী, সাধারণ কৃষকদের অনেকেই চড়া দামে খড়, ঘাস, লতাপাতাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে না পেরে এক প্রকার বাধ্য হয়েই পানির দামে বিক্রয় করে দিচ্ছেন তাদের গৃহপালিত গরু-ছাগল। উপজেলার পশ্চিম ভালুকা গ্রামের আব্দুল হেলিম বলেন, আমার চারটি গরু ও দুটি ছাগল আছে। নিজের জমিতে আবাদকৃত ধানের খড় এবং কিছুদিন আগে কেনা খড় শেষ হয়ে গেছে। তাই কোনো উপায়ান্তর না দেখে বাজারে খড় কিনতে এসে যে দাম দেখছি তা দিয়ে আমার পক্ষে খড় কেনার সুযোগ না থাকায় খালি হাতেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। সামনের বাজারে হয়তো পশুগুলো বিক্রি করে দিতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুত্ফুন্নাহার বলেন, এ বছর বন্যা ও বৃষ্টিতে গোখাদ্য সংরক্ষণ করতে পারেনি কৃষকরা। এ কারণে খড়ের দাম বেড়ে গেছে।

ইত্তেফাক/এমএএম