মানিকগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছে উভয় পক্ষের তিন ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ক্যাম্পাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- রাজু আহম্মেদ, হৃদয় ও সজিব হোসেন। এদের মধ্যে রাজু আহম্মেদ, হৃদয়কে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাজুকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সজিব হোসেন নামে মানিকগঞ্জ সরকারি টেকনিকেল কলেজের আরেক ছাত্রলীগ কর্মীকেও মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাপস সাহা ও সদর থানা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি সিফাত কোরেশী সুমন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের বিষয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন তাপস ও সুমন।
সিফাত কোরশী সুমনের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত তার গ্রুপের অন্তত ১৫ জন কর্মীকে আহত করেছে তাপস গ্রুপ। দেবেন্দ্র কলেজের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জিম্মি করে টাকা আদায় ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাপস গ্রুপের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে কলেজে ছাত্রলীগ কর্মী সজিবকে মারধর করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে তাপস সাহা জানান, সুমন ছাত্রলীগের নামে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করছে। ছাত্রলীগের নামে সুমন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা কলেজে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। সে ছাত্রলীগের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই প্রকৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়। কলেজের সিসিটিভির ফুটেজ দেখলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে কারা ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।
আরো পড়ুন: কেনিয়ার হোটেলে জিম্মিদশার অবসান, জঙ্গি তাণ্ডবে নিহত ১৪
এ বিষয়ে আহত দুই ছাত্রলীগ কর্মী জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালে আমারা ক্যাম্পাসে আসি। আচমকাই ৪০-৫০ জন লোক আমাদের ধাওয়া করতে করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌছাতে পৌছাতেই আমাদের ধারালো অস্ত্র, গ্যাস-পাইপ দিয়ে বেধড়ক আঘাত করতে থাকে।
আহত রাজু জানায়, আমি জীবন বাঁচাতে কলেজের দ্বিতীয় তলায় অধ্যক্ষের রুমের ভিতরে ঢুকে দরজা লাগাতে গেলে দরজা লাথি মেরে সেখান থেকেই তাকে টেনে হেঁছরে বের করে এলোপাথাড়ি ধারলো অস্ত্র দিয়ে জখম করতে থাকে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আমাদের দুজনকেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ জেলা সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই পক্ষেরই মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভির ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। ফুটেজ দেখেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
