পাইকগাছায় সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ!

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:৪৮

পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা

বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভাবে হুমকির মুখে রয়েছে পাইকগাছা পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও জোয়ারের পানির তোড়ে বেড়িবাঁধের মাটি ধসে ভাঙন আতঙ্কে এ অঞ্চলের মানুষ বছরের একটা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. এফ এম এ রাজ্জাক বলেন, পাইকগাছায় পাউবোর বেশির ভাগ বাঁধ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সরু ও দেবে গেছে। অধিকাংশ বাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহূত হয়। এছাড়া অধিকাংশ বাঁধের তীরবর্তী এলাকায় অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের ফলে বাতাসে পানি আঁছড়ে পড়ায় বাঁধগুলি আরো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক এলাকায় চিংড়ি চাষিরা বাঁধ কেটে বা বাঁধের নীচে পাইপ ঢুকিয়ে ঘেরে পানি সরবরাহ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁধগুলি। বর্ষা মৌসুমের আগে বাঁধগুলি সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে ঐ সকল এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা তার।

সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পৌর এলাকা রীতিমত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার শিববাটীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ইন্দুকাটা এলাকায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে মাটি ভিজে আছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় পৌরসভার দক্ষিণ-পশ্চিমে শিববাটি থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসল ও লিজ ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। ঐ সকল ঘটনায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। স্থানীয়রা ঐ সময় স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করলেও দীর্ঘ সময়ে বাঁধগুলো স্থায়ী ও টেকসই মেরামত হয়নি। পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, প্রায় এক দশক যাবত্ তিনি শুনে আসছেন নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সময় অনেক সভা-সেমিনারের পাশাপাশি আন্দোলনও হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় টেকসই ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে পাইকগাছা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী পরিচালক মো. ফরিদ আহম্মেদ বলেন, বিগত দিনে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যেভাবে বেড়িবাঁধের ক্ষতি হয়েছে তা আর সেইভাবে মেরামত করা হয়নি। হঠাত্ কোথাও ভেঙে গেলে জরুরিভাবে সেখানেই বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন নদী-খালের বাঁধের অবস্থা দেখে আলোচনা করেছি। সমস্যা সমাধানে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, চলতি বাজেটে পাইকগাছায় ৫৬টা স্লুইস গেট, ৯টা পোল্ডারের মধ্যে জরুরিভিত্তিতে ছয়টার কাজ করব। খুলনা-৬ সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জান বাবু ইত্তেফাককে বলেন, পাইকগাছা-কয়রা, শ্যামনগর, দাকোপ উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য একনেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অচিরেই অনুমোদন হতে যাচ্ছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ সুন্দরবন অঞ্চলের রূপরেখা পালটে যাবে।