বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তারুণ্যের ভাবনায় বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী

বিজয় দিবস বাঙালি জাতিসত্ত্বার আত্মমর্যাদা, বীরত্ব ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। প্রতিবছর এই দিনটি বাঙালিরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ১৬ ডিসেম্বর এলেই দেশব্যাপী বিজয়ের ধ্বনি নতুন করে উচ্চারিত হয়। বিজয়ের এই উদযাপন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত করে তোলে। আর এবারের বিজয় দিবসে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে স্বাধীনতা লাভের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ।
বিজয় দিবসকে উপলক্ষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাদের ভাবনার কথা জানিয়েছেন ইত্তেফাক অনলাইনকে। গ্রন্থনা করেছেন ইমন ইসলাম, তাসনিমুল হাসান উদয়ফরিদ উদ্দিন রনি

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:২৪

রিপন হোসেন
বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
আজ আমরা সেই সব আলোকিত মানুষ কে স্মরণ করছি যাদের আলোর পরশে এসেছে মুক্তমনে বাঁচার অধিকার। প্রাণের মায়া ত্যাগে যারা দিল এ বিজয় তাদের হাজারো সালাম। কত অন্তরায় কত বাঁধা পেরিয়ে এ বিজয় অর্জন। জঞ্জালে উত্তপ্ত ছিলো এ মাটি। পূর্বপুরুষদের সংগ্রামে আমরা এই দেশ পেয়েছি, তাই দেশের কল্যাণে আমাদের সবার কাজ করা উচিৎ। মানব মুক্তির যোদ্ধা আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই হতে হবে। আমাদের হাত ধরেই তরুণ সমাজ একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়বে একদিন।

 

সুবর্ণা আক্তার
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদেরকে একটি  স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিলেন তাদেরকে কেবল বিজয় দিবসে নয়, প্রতিদিনই প্রাণভরে স্মরণ করা উচিৎ।  পাশাপাশি তাদের রেখে যাওয়া আদর্শকে বুকে ধারণ করে  দেশকে  সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে উচ্চ আসনে উপস্থাপন করে শহীদদের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। বিজয় দিবসে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। 

 

মেহেদী হাসান অয়ন
ফিশারিজ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
৫০ মানেই বিশেষ একটি সংখ্যা আমাদের সবার কাছে। আর সেটা যদি হয় মাতৃভূমির বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণ, তাহলে তো সেটা আরও বিশেষ কিছু। বিজয়ের ৫০ বছরে পা দিয়েছে আমাদের বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা সেই স্বাধীনতার মর্যাদা ঠিক কতোটা রক্ষা করতে পেরেছি তা একবার ভেবে  দেখার সময় এসেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি সহ নানান ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যায় দেশের মানুষ জর্জরিত। আমাদের উচিত ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়া। নিজেদের জায়গা থেকে এক হয়ে, ভুলগুলো শুধরে নিয়ে জাতি হিসেবে এক কাতারে দাঁড়ালেই হয়তো আমরা একদিন বিজয়ের আনন্দ ষোলো আনা উপভোগ করতে পারব।

 

মো. আরিফ হাসান
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার কাছে বিজয় মানে স্বাধীন দেশের প্রতিটা নাগরিকের স্বপ্নপূরণ। একাত্তরের সেই নতুন সূর্যোদয়ের পর আমার এই প্রিয় দেশটা পেরিয়েছে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর। কিন্তু এখনও আমার দেশে রোজ সূর্যোদয়ের সাথে মিশে থাকে হাজারটা স্বপ্নভঙ্গের কান্না, মিশে থাকে দূর্নীতি-দুর্দশা কিংবা বাকস্বাধীনতা হারানো নির্বাক কিছু মানুষের গল্প। কিন্তু আশার ব্যাপার হলো, আমাদের তরুণ প্রজন্ম রংতুলির আঁচড়ে প্রতিনিয়ত রাঙিয়ে চলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের এই সাদাকালো ক্যানভাস। ক্রিকেট বিশ্বে কিংবা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি —সব বিষয়েই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এনে দিচ্ছেন একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের তরুণ প্রজন্মই সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এই দেশটাকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করতে পারবে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটাই প্রত্যাশা।

 

মোঃ আশিকুর রহমান
আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকৃত বিজয় তখনই অর্জিত হবে, যখন দেশের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে পারবো। আজ বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পরে এসেও ফুটপাথে মানুষ না খেয়ে ঘুমায়, প্রচন্ড শীতের রাতে ছিন্নমূল মানুষ অসহায়ের মতো দিনযাপন করে, এখনও দেশের সকল শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা যায় নি। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে আমাদের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিজয়ের নতুন ভোরে আমরা সকলেই যেন এক হয়ে আমাদের আশেপাশের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য এগিয়ে আসার শপথ নিতে পারি। সকলে মিলে একসাথে সামনে এগিয়ে যাওয়াতেই প্রকৃত বিজয়। প্রতিটা মানুষের মাঝে বিজয়ের ছোয়া লাগুক। ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রতা মুক্ত নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটাই কামনা।

 

নোশিন তাহসিন সাজ
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার কাছে বিজয় মানে নিজেদের ভূমি চিনতে শেখা। সেই ভূমির প্রতিটি কোণায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারার মঞ্চ তৈরি হওয়া। কারণ কথাদের কখনো মেরে ফেলা যায় না। মেরে ফেলা যায় না আমাদের মস্তিষ্কজাত শক্তিশালী শব্দগুচ্ছকে। যখন আমরা কথা বলতে জানব, তখনই হবে আমাদের বিজয়। একটা কথার ফুলকি উড়েই বারুদ হয়ে হয়ে ফুটবে। সারা শহর উথাল-পাথাল হয়ে ভীষণ রাগে যুদ্ধ হবে। নবারুণ যেমন বলেছেন, ঠিক তেমনি। মানুষ চিনে নিতে শিখবে, বুঝে নিতে শিখে কোনটা তাদের প্রাপ্য। ওটাই বিজয়। মানুষের বিজয়। ওটাই নতুন ভোর। যারা এই দেশটাকে ভালোবেসে প্রাণ দিয়েছিল, দিচ্ছে এবং দেবে, তারা আমাদের মাঝে ফিরে আসবে ঠিক সেই ভোরেই।

 

নাজমুন নাহার জেমি
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৭১ সালে মা-বোনেরা দেশের জন্য নিজেদের সতীত্ব হারিয়ে ছিল যাতে আর কোনো মা-বোনের সম্ভ্রমহানি না হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও এদেশে এখনো চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে,  মনে হয় তাহলে কি বীরাঙ্গনাদের সব ত্যাগ-তিতিক্ষা বৃথা হয়ে যাচ্ছে!  স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা চাই দেশে যেন নীরারা নিরাপদ থাকে। আর  কোনো নারী যেন নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার না হয়।

 

জুবায়েদ মোস্তফা
লোক প্রশাসন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আমাদের বিজয় তখন স্বার্থক হবে, যখন মত ভেদাভেদের অযুহাতে কারো জীবন অন্ধকারে পতিত হবে না, বন্ধ হবে সমস্ত প্রতিহিংসার পারদ, প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মত করে তৈরি হবে সোনার বাংলাদেশ। আমি চাই, বাংলাদেশ মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেয়া সন্তান যেমন মায়ের কাছে সমান। তদ্রুপ এ দেশে জন্ম নেয়া সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, পেশার মানুষ যেন সমান অধিকার চর্চা করতে পারে এ বিষয়টি নিশ্চিত হোক।

 

মোমেনা আক্তার
বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলার বীর যোদ্ধারা যে স্বাধীন মাতৃভূমি আমাদের উপহার দিয়ে গেছে সেই স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব এই প্রজন্মের তারুণ্যের হাতেই। স্বাধীনতা মানে শুধু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকেই বুঝায় না। 
ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে । তাইতো উঁচু-নিচু, জুলুম-শোষণ, দুর্নীতি -দুঃশাসন, দলীয় সংকীর্ণতা প্রভৃতিকে দূরে রেখে শান্তিপূর্ণ ও সম্ভবাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বিজয়ের মাস জন্মের মাস, জন্মের মতোই নিষ্পাপ হয়ে উঠুক বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাণ থেকে ধূলিকণা পর্যন্ত।

 

খায়রুল ইসলাম
ইংরেজি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ আজ বিজয়ের ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে অথচ  বিজয়ের স্বাদ পুরোপুরি নিতে পেরেছে গুটিকয়েক মানুষ, বাকিরা রয়ে গেছে অনেক দুরে।আজ এই বিজয়ের স্বাদ ঘরে ঘরে মেহনতী মানুষের দ্বারে পৌঁছে  দিতে যাদের জাদুমন্ত্রের মত প্রয়োজন, তারা হল দেশের তরুণ প্রজন্ম । এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার কাঙ্খিত স্বপ্নের দ্বারে। তরুণদের উদ্দীপ্ত চেতনা বাংলাদেশের বিজয়কে নতুন রুপে অবতীর্ণ করবে। 

 

জেবা সামিহা তমা
হারাগাছ সরকারি কলেজ
নিজেদের বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্ণ হলো আজ। আমরা পুরো একটা জাতি নিজেদের অধিকার পেয়েছি৷ কিন্তু এখনো বোধহয় নিজেদের অর্জন করা অধিকার সুষ্ঠু বণ্টনে কিংবা বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও আমরা ব্যর্থ। হ্যাঁ, এটা জানি যে সব কিছুই শতভাগ শুদ্ধ হয় না। কোথাও না কোথাও কমতি থেকেই যায়। কিন্তু যেটুকু কমতি থেকে যায় সেটা কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।  আমার মনে হয় প্রত্যেক ব্যক্তি না হোক, অন্তত বেশিরভাগ মানুষই যদি এ নিয়ে ভাবে তবে আমাদের বিজয় ও গৌরবের অর্জন সম্পূর্ণ হবে।

 

ফারিহা আলম লাবণ্য 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
কত শত বাঁধা পেরিয়ে, কত প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই আজকের বিজয়। বাংলার মাটিতে লুটপাট হয়েছিল মা বোনদের সম্ভ্রম। কি ভয়াবহ দিন অতিবাহিত করে, কত নির্যাতন সহ্য করে আমাদের জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা ছিনিয়ে এনেছে এক টুকরো লাল সবুজের দেশ। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবস থাকলেও বিজয় দিবস থাকে না। বাংলাদেশ সেই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী দেশ, যেটি বহু বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর রণাঙ্গনে শত্রুকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এ আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের চলার পাথেয়, আমাদের চেতনা৷

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ব্রিটেনের রানির পুরস্কার পেলেন বিদ্যানন্দের কিশোর

মেডিকেলে ৫০তম ইভা, ডেন্টালেও প্রথম

নাদিয়ার সাহসী উদ্যোগ

বাকৃবিতে ‘আলোকসরণির’ ভিন্নধর্মী কার্যক্রম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হাত রাঙানোই নুসরাতের স্বপ্নের পেশা

সেই সব বইপ্রেমীদের গল্প

ককপিটের গল্প শোনান ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ

দ্রুততম বীজ-অঙ্কুরোদগম পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন দুই কলেজছাত্র