বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আন্তর্জাতিক তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে দেশসেরা ‘ফার্মিনেফ’ দল 

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৩

২০১৬ সালে জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আত্মপ্রকাশ করে। এর লক্ষ্য সারাবিশ্বের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করতে আগ্রহী করে তোলা। 

প্রতি বছর জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে এটি অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড একটি দলগত প্রতিযোগিতা। যেখানে প্রতি দল থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ জন প্রতিযোগী অংশ নিতে পারে। এ প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলকে ৬-৭টি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কিত জটিল সমস্যা সমাধান করতে দেওয়া হয়। 

এজন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকে। এবার ছিল তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের ষষ্ঠ আসর। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে কেবল বাংলাদেশেরই ৮টি দল সেরা ২৩-এ জায়গা করে নেয়। তবে ফার্মিনেফ এক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বল। ছয়টির মধ্যে দুটি প্রশ্নের সমাধান করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ দলটি দেশসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেইসাথে বিশ্ব র‌্যাংকিংয়েও সামনের সারিতে রয়েছে দলটি। সারাবিশ্বের কয়েক হাজার দলের মধ্যে তাদের অবস্থান সেরা ১৫-এ। 

এছাড়া সমান পয়েন্ট পেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এলিয়েন্স অব ভেনাস ১৫তম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য আরেকটি দল স্কার্মিয়ন ১৬তম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারস্টেলার ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটার ম্যাটারস ১৭তম এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হাইপারসন ১৮তম স্থান দখল করে। দেশসেরা ফার্মিনেফ দলের সদস্যরা হলেন আসিফ ইকবাল, তাহসিন আহমেদ অতশী, মো. নাঈম রিফাত, মো. লাবিব হোসেন খান ও নওরিন নুরাইন। প্রত্যেকেই পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মঞ্চে এবারই ছিল তাদের প্রথম বিচরণ। 

এ প্রসঙ্গে দলটির অন্যতম সদস্য মো. নাঈম রিফাত বলেন, ITPO (International Theoretical Physics Olympiad)-তে এটাই আমাদের প্রথম অংশগ্রহণ হলেও আগে যেহেতু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ছিল তাই নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল যে, চেষ্টা করলে ভালো কিছু করতে পারব।’ 

ফার্মিনেফের আরেক সদস্য মো. লাবিব খান বলেন, ‘শুরুতে যদিও ভেবেছিলাম, আজব প্রশ্নের আজব কিছু উত্তর দিয়ে দিলেই হবে। পরবর্তী সময়ে মনে হলো একটু গবেষণা করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা যেতেই পারে।’ 

নওরিন নুরাইন জানান, ‘প্রশ্ন অনেক অ্যাডভান্সড লেভেলের ছিল। কিন্তু আমরা সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি বলেই সফল হতে পেরেছি।’ তবে এই কৃতিত্বের পেছনে সিনিয়রদের তৈরি ‘ফার্মিয়ন ফিজিক্স ক্লাব’র অবদানই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন ফার্মিনেফের সদস্যরা। 

তাদের ভাষায়, ফার্মিয়নের সুবাদে একাডেমিক পড়াশোনার বাইরেও কোয়ান্টাম বলবিদ্যা, থিওরি অফ রিলেটিভিটি’র মতো পদার্থবিজ্ঞানের নানা জটিল বিষয়ে আমরা সিনিয়র-জুনিয়ররা একসাথে বসে পড়াশুনা করি। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের ক্যারিয়ার বিষয়ক আলোচনা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সম্পর্কে গাইডলাইন ও ধারণা প্রদান সবকিছুই আমাদের এ ক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রম। এভাবে প্রায় প্রতি সপ্তাহে নতুন কিছু শেখার উদ্দেশ্যে আমরা একত্রিত হই। যা আমাদের অভিজ্ঞতার পাল্লাকে ভারী করতে সাহায্য করেছে। 

সেইসঙ্গে ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত University Physics Competition (UPC) and Astrophysics Competition (IAAC)-এ আমাদের ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণ ও অর্জন আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। ভবিষ্যতে ফার্মিনেফের সদস্যদের কেউ চান গবেষকের আসনে বসতে, কেউ চান শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হতে।

আবার কেউ এভাবে প্রতিনিয়ত নিজেকে মেলে ধরতে চান আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তবে একটা জায়গাতে সবার মিল রয়েছে, তারা শিখতে ও শেখাতে চান; গড়ে তুলতে চান ফার্মিয়নর মতো প্রোডাক্টিভ ক্লাব। যার মাধ্যমে লাল-সবুজের পতাকা উড়বে বিশ্বের বুকে। 

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ব্রিটেনের রানির পুরস্কার পেলেন বিদ্যানন্দের কিশোর

মেডিকেলে ৫০তম ইভা, ডেন্টালেও প্রথম

নাদিয়ার সাহসী উদ্যোগ

বাকৃবিতে ‘আলোকসরণির’ ভিন্নধর্মী কার্যক্রম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হাত রাঙানোই নুসরাতের স্বপ্নের পেশা

সেই সব বইপ্রেমীদের গল্প

ককপিটের গল্প শোনান ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ

দ্রুততম বীজ-অঙ্কুরোদগম পদ্ধতি আবিষ্কার করলেন দুই কলেজছাত্র