রাজশাহীতে শিশুকে একসঙ্গে ৪ ডোজ টিকা

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২২, ০১:৪৮

রাজশাহীতে ১০ মাস বয়সী এক শিশুকে একসঙ্গে চার ডোজ টিকা প্রয়োগের ঘটনায় চার স্বাস্থ্য কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবারের ( ০৯ জানুয়ারি) মহানগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের নিউ কলোনি এলাকার রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত ইপিআই কেন্দ্রের এই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত টিকা প্রয়োগের ঘটনায় শোকজ প্রাপ্তরা হলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মী জোসনা, শিল্পী, তহমিনা ও সুপারভাইজার আজাহার আলী।

এদিকে ঘটনার পর শিশুটির বাবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন।  

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় সুমাইয়া খাতুন নামের ওই শিশুকে টিকা দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মা মৌসুমী। শিশুটি ওই এলাকার সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।

সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মীদের দাবি গল্পের ছলে তারা এই ভুলটি করেছেন। তাঁরা সুমাইয়াকে চার ডোজ টিকা দিয়েছেন, তার মধ্যে তিনটি ডোজ পুনরায় দেওয়া পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, বাচ্চাকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর তার শরীর খারাপ হলে তারা সন্দেহ করেন। টিকার কার্ড দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে ভুল করে অতিরিক্ত টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। তখনই তিনি ওই টিকাকেন্দ্রে ছুটে যান। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে পাত্তা দিচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের সামনে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্বীকার করেন যে ভুল করে টিকার ডাবল ডোজ দিয়ে ফেলেছেন।

সুমাইয়ার বাবা সাদ্দাম হোসেন জানান, সুমাইয়াকে গত বছরের ২৩ জুন ইপিআইয়ের টিকার তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ ডিসেম্বর চতুর্থ ডোজ দেওয়ার কথা ছিল। তখন রাজশাহীতে না থাকায় টিকা দেওয়া হয়নি। শিশুকে নিয়ে যাওয়া হলে অতিরিক্ত টিকা দেওয়া হয়।

টিকা প্রদান কর্মসূচির সুপারভাইজার আজাহার আলী বলেন, ঘটনার সময় তিনি কেন্দ্রে ছিলেন না। তবে স্বাস্থ্যকর্মী রেজিস্টার ও ট্যাব না দেখে বাচ্চাটিকে ভুল করে টিকা দিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। বিকেলে শিশুটিকে দেখে আসেন রাসিকের চিকিৎসক সরকার বনি। তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।

রাসিকের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌহিদুল হক বলেন, রাসিকের চিকিৎসা কর্মকর্তা সরকার বনি শিশুটিকে দেখে এসে জানিয়েছেন তার সমস্যা হবে না। 

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপাতত চারজনকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে।