সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘ব্যালে বালিকা’ ইরা

ফেসবুকে ভাইরাল নওগাঁর এই নাচের শিক্ষার্থীর ছবি

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৬

ইরার পরিচয় আর নওগাঁ সরকারি কলেজে সীমাবদ্ধ নেই, আটকে নেই নওগাঁ জেলায়ও। তার নাম দেশ ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে বিদেশেও। এই পরিচয় এনে দিয়েছে তারই কীর্তি, তারই নৃত্য। তার পরিচয় এখন ‘ব্যালে বালিকা’। পুরো নাম মোবাশ্বিরা কামাল ইরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে তার ব্যালে নৃত্যকলা দারুণ মুগ্ধতায় ডুবিয়েছে শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমীদের। তার ব্যালে নৃত্যের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ইরা যেমন ভাসছেন প্রশংসার জোয়ারে, তেমনি সামলাতে হচ্ছে গণমাধ্যমকেও। কেউ তাকে দিচ্ছেন ‘উচ্ছল মুক্ত বিহঙ্গ’ উপাধি। কেউ বলছেন ‘বাংলার উড়ন্ত মানবী’। কারো মতে ‘আগুন ডানার পাখি’।

মুবাশশীরা কামাল ইরা কেউবা তার নৃত্যের প্রকাশকে বলছেন ‘নারীমুক্তির অভিব্যক্তি’ হিসেবে। যে কলা-কৌশলে ছবিতে পোজ দেওয়া হয়েছে, সেটি নাচের একটি নতুন ধরন। ব্যালে ও জিমন্যাস্টিকসের সমন্বয়ে নাচের এ ফর্ম। এখানে নাচের সঙ্গে অভিনয় এবং সংগীতের অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যকার্ড ও পোস্টার থাকায় অনেকে এমন নান্দনিক প্রকাশকে ‘সংকট থেকে মুক্তির প্রতীক’ও বলছেন। কেউ কেউ আবার ছবির ক্যাপশনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার পঙ্ক্তিও জুড়ে দিচ্ছেন।

মুবাশশীরা কামাল ইরা ইরার বাড়ি নওগাঁ শহরের জগত্সিংহপুর মহল্লার বটতলা মোড়ে। আবু হায়াৎ মোহাম্মদ কামাল ও ফাহমিদা আক্তার দম্পতির চার মেয়ের মধ্যে মোবাশ্বিরা কামাল ইরা তৃতীয়। বাবা ব্যবসায়ী এবং মা গৃহিণী। নওগাঁ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে বাণিজ্য শাখায় পড়ছেন ইরা। ২০২০ সালে নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শৈশব থেকেই ইরা ছিলেন অদম্য মেধাবী ও চঞ্চল প্রকৃতির।

মুবাশশীরা কামাল ইরা বেড়ে ওঠা নওগাঁ শহরেই। বরাবরই নাচ করতে ভালোবাসেন। শৈশবে শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছেন। পরে ঢাকায় ভরতনাট্যম শেখেন। তবে ব্যালে নৃত্যের ভাবনা মনে আসে ২০২০ সালের লকডাউনের সময়। ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে শিখতে শুরু করেন ব্যালে। এজন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন। ২০২১ সালে সাধনা নামে একটি নাচের সংগঠনের সঙ্গে কাজ শুরু করেন ইরা।

মুবাশশীরা কামাল ইরা এর মধ্যে পরিচয় হয় ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার জয়িতা আফরিনের সঙ্গে। তিনি থাকেন ঢাকার ধানমন্ডিতে। গত ২০-২২ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নৃত্য উত্সবে যোগ দিতে এসে জয়িতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইরা। দুজনে ফটোগ্রাফির আলাদা একটা অর্থ তৈরির চিন্তা করছিলেন। ২৩ জানুয়ারি সকালে দুজনে বেরিয়ে পড়েন। এমন সময় চোখে পড়ে রাজু ভাস্কর্যের পাশে চলমান বিভিন্ন আন্দোলনের প্ল্যাকার্ড-পোস্টার। সেখানে কয়েকটি ফটোশুট করেন। পরে ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে ফেসবুকে আপলোড দেওয়া হয় ছবিগুলো। সে ছবিই ছড়াতে ছড়াতে এখন সবার মুখে মুখে ইরার নাম।

মুবাশশীরা কামাল ইরা মোবাশ্বিরা কামাল ইরা বলেন, পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই শিক্ষক সুলতান মাহমুদের কাছে নাচ শিখেছি। ২০২০ সালে এসএসসি পাশ করলাম। সে সময় ভারতে গিয়ে শাস্ত্রীয় নৃত্য ও ভরত নাট্যমের ওপর কিছু শেখার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে লকডাউন ঘোষণা হলে মন খারাপ হয়ে যায়। তখন ভাবলাম আমার দ্বারা কিছু হবে না বা কিছুই করতে পারব না। তখন মা পরামর্শ দিলেন ইউটিউব দেখে ঘরে বসে নাচ করতে। বলা যায়, ইন্টারনেট দেখেই ‘ব্যালে’ শেখা। সবসময় ইচ্ছা ছিল নতুন কিছু শেখার। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যালে করে এমন শিল্পী খুবই কম আছেন।

মুবাশশীরা কামাল ইরা কিন্তু দেশের বাইরে ব্যালের ব্যাপক প্রচলন আছে। আমার ইচ্ছা আছে ব্যালে নিয়ে কাজ করার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যালে নৃত্যের ছবি এভাবে ভাইরাল হবে ভাবেননি ইরা। তিনি বলেন, যেভাবে ছবি সবাই শেয়ার করেছেন তা কল্পনাতীত এবং প্রশংসনীয়। আমার ইচ্ছা ছিল আমরা যেহেতু স্বাধীন দেশের নাগরিক, স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করার। আমার কাছে রাজু ভাস্কর্য মনে হয়েছিল স্বাধীনতা এবং মুক্তির প্রতীক। সেই চেতনা থেকেই সেখানে ফটোশুট করা। ছবিগুলো ভাইরাল হবে, এমন কোনো চিন্তা মাথায় ছিল না। আমার মেসেঞ্জারে বিভিন্ন মিডিয়া সাক্ষাত্কার নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করে। সবাই আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন। এটা আমার কাছে বড় একটা প্রাপ্তি, যার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা পাব।’

মুবাশশীরা কামাল ইরা ইরার মা ফাহমিদা আক্তার বলেন, শুরু থেকে পারিবারিক তেমন সাপোর্ট পাওয়া যায়নি। মেয়ের ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকায় আমি চেষ্টা করেছি এ পর্যন্ত। মেয়ের এই শখের নাচের বিশেষ ধরনের জুতা এখনো কিনে দিতে পারিনি। বাংলাদেশে সচরাচর এই জুতা পাওয়া যায় না। তাইতো খালি পায়ে অনেক কষ্টে ব্যালে নাচ করতে হয়।

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ছয় দেশের চার শতাধিক তরুণের অংশগ্রহণে এসডিজি ইয়ুথ সামিট

বিক্রমপুরের জুবায়ের এখন অ্যামাজনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

এই সময়ের সফল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

ইত্তেফাক-এনএনও লিডার্স সামিট সোমবার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাদের অনুভূতি

বাজেট ২০২২-২৩

তরুণরা যা ভাবছেন

ফোর্বসে সাত বাংলাদেশি তরুণ