গিনিতে ইবোলা রোগীদের চিকিৎসা করে নিউইয়র্কে ফিরে আসা এক চিকিৎসক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মেডিকেল চেক-আপে তার এ রোগ ধরা পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এ নগরীতে এই প্রথম কোন ব্যক্তি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
১০৩ ডিগ্রী জ্বর ও বমিবমি ভাবসহ শরীরে ইবোলার লক্ষণ পাওয়া যাওয়ায় ক্রেইগ স্পেন্সার নামের এই চিকিৎসককে বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের বেলভিউ হাসপাতাল কেন্দ্রে তাকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
অনেক রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও স্পেন্সারের ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। তবে তিনি
নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের এতে আতংকগ্রস্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জোর দিয়ে বলেন, এ ভাইরাস মোকাবেলায় এ নগরী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
নিউইয়র্ক গভর্নর এ্যান্ড্রিউ কোমো জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা শরীরের যে কোন অংশের ফ্ল্যুইড কারো সংস্পর্শে না গেলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নাই। নগরীর কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে চারজনকে সনাক্ত করেছেন যারা স্পেন্সারের মতো ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখানে ডালাসের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে তিনি মনে করেন। কেননা, সেখানে যথাযথ প্রস্তুতি না থাকায় হাসপাতাল স্টাফ এতে আক্রান্ত হন। উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসে প্রায় ৪ হাজার ৯শ’ জনের মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রস্তুতি নেয়ার আগেই ডালাসে ইবোলা রোগ ধরা পড়ে। ফলে এ ক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পেরেছি।’
নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কমিশনার মেরি ট্রাভিস বসেত জানান, স্পেনসার গত ১৭ অক্টোবর গিনি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। তিনি পশ্চিম আফ্রিকায় দাতব্য চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন।
এ চিকিৎসক দেশে ফিরে আসার পর থেকেই নিয়মিতভাবে তার শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
