ইবোলা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় এশিয়ার দেশগুলো যথেষ্ট ভূমিকা রাখেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ব ব্যাংকের গ্রুপ প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। এ দিকে, সিয়েরা লিওনে ইবোলা রোগীদের চিকিত্সায় একটি বেসরকারি কোম্পানি থেকে স্বাস্থ্যকর্মী নেয়ার জন্য চুক্তি করার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। খবর আল-জাজিরা ও বিবিসির।
বিশ্ব ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিম স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এশিয়ার অনেক দেশের সুপ্রশিক্ষিত চিকিত্সাকর্মী রয়েছে এবং তারা ইচ্ছা করলেই তাদের স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর মাধ্যমে ইবোলা-বিরোধী লড়াইয়ে সামিল হতে পারত। ইবোলা নিয়ন্ত্রণে এখনো হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এশিয়ার নেতাদের প্রতি পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্ত তিনটি দেশে অধিক সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর আবেদন জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদের জন্য ওই তিনটি দেশে তাদের মোতায়েন করা হবে।’ ইবোলা আক্রান্তদের সংখ্যা শূন্যে না নামিয়ে আনা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
এ দিকে, ইবোলা রোগীদের চিকিত্সায় সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের সিয়েরা লিওনে পাঠানোর পরিবর্তে একটি বেসরকারি কোম্পানি থেকে স্বাস্থ্যকর্মী নেয়ার জন্য চুক্তি করার কথা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্য তৈরি করছে এ রকম একটি চিকিত্সা কেন্দ্রে ১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে অস্টেলিয়া। ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি অস্ট্রেলিয়া আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। এই মহামারীতে লাইবেরিয়া, গিনি ও সিয়েরা লিওনে এরই মধ্যে পাঁচ হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে।
এ দিকে, কর্মী পাঠানোর আগে যে স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগটি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তাদের সরিয়ে দিতে অন্য দেশের সরকারগুলোকে রাজি হওয়ার দাবি করেছেন অ্যাবোট। কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড জানায়, আক্রান্ত কোনো অস্ট্রেলীয় কর্মীকে যুক্তরাজ্যের ব্যবস্থাপনায় হয় ব্রিটেন নতুবা জার্মানিতে চিকিত্সার জন্য সরিয়ে নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, সরকারিভাবে কর্মী না পাঠালেও অস্ট্রেলীয় কোম্পানি অসপেন এ মাস থেকে ইবোলা নিয়ন্ত্রণে আফ্রিকায় কাজ শুরু করবে। এর অধিকাংশ স্থানীয় হলেও বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক কর্মী এবং বেতনভূক অস্ট্রেলীয় সেচ্ছাসেবীও থাকবে।ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফ্রিকায় স্বাস্থ্যকর্মী না পাঠানোয় এরই মধ্যে নিজের দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোশিয়েসনসহ বেশ কিছু সংস্থা ওই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারকে আরো বেশি কিছু করার আহবান জানিয়েছেন।
