স্ত্রী সাহসিকা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ০০:২২

যে গ্রামে পুরুষদের চোখের দিকে তাকিয়ে নারীরা কথা বলার ‘স্পর্ধা’ পর্যন্ত দেখান না সেই গ্রামের পঞ্চায়েত সভায় মোড়লদের ধমকানি সত্ত্বেও নিজের মদ্যপ স্বামীকে পরিত্যাগ করার ঘোষনা দিয়েছেন বিহারের এক গৃহবধু। একারণে তিনি ‘সাহসিকা’ তকমা পেয়েছেন ভারতের গণমাধ্যমের নিকট থেকে।

বিহারের ফিরাঙ্গি বিগা গ্রামের ৩০ বছর বয়সী ফুলিয়া দেবীর স্বামী           মদ্য পান করেন। এই অঞ্চলে স্বামীরা শাসন করে স্ত্রীদের। স্বামীদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়ার ‘স্পর্ধা’ নেই কোনো স্ত্রীর । কিন্তু ফুলিয়া দেবী ব্যতিক্রম। তিনি স্বামীকে মধ্যপান করতে নিষেধ করেছেন। স্ত্রীর এই ‘দুঃসাহস’ দেখে স্বামী পঞ্চায়েতের কাছে নালিশ করেন। ফুলিয়া দেবীর বিচারের জন্য পঞ্চায়েত সভা বসায়। সেখানে পঞ্চায়েতের মোড়ল ফুলিয়ার কাছে কৈফিয়ত চায়। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ওই গৃহবধু বলেন, তিনি স্বামীকে সুপথে আনার অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাকে ত্যাগ করছেন। এবং তাকে পরিত্যাগের সিদ্ধান্ত এই পঞ্চায়েতের সভা থেকেই কার্যকর হবে!

ফুলিয়ার দুঃসাহস দেখে মোড়লের চোখ ছানাবড়া। মোড়ল বুঝলেন, এই ‘তেজি’ নারীকে সাজা দিলে মিডিয়ার কানে চলে যেতে পারে। তখন পুলিশের তাড়া খেয়ে বেড়াতে হবে। তাই কোনো রায় না দিয়ে সেদিনের মতো পঞ্চায়েত সভা ভেঙে দেন। কিন্তু ততক্ষণে খবরটি প্রচার হয়ে গেছে ভারতজুড়ে। আর ধন্য ধন্য রব উঠেছে মিডিয়াতে। -এএনআই