কথায় আছে ভালবাসা জাত-পাত, ধর্ম, সমাজের বাধা মানে না। কিন্তু সমাজই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে মিশরের প্রেমিক-প্রেমিকাদের সামনে। মুসলমান ও খ্রিষ্টান দুই ধর্মের মানুষই মিশরে দীর্ঘদিন থেকে একসাথে মিলেমিশে বাস করছে। মুসলমান ও খ্রিষ্টান আন্ত ধর্মের প্রেমও তাই বিরল ঘটনা নয়। সমাজের বাধা থাকলেও এ ধরনের সম্পর্কের পরিণতিতে পৌঁছানো অসম্ভব ছিল না। এক কথায় সমাজে উদারতা ছিল। কিন্তু স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর থকে এই চিরচেনা দৃশ্যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় ব্যাপারে অসহিষ্ণুতা মিশরের সমাজে এখন ক্রমবর্ধমান।
তারেক ও হোউদিয়ার প্রেমের মধ্যদিয়ে সমাজের এমন ছবিটিই দেখা যাচ্ছে। এদের মধ্যে তারেক মুসলমান আর হোউদিয়া কপটিক খ্রিষ্টান ধর্মের। দুজনেই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্ক থাকার পরও দুজন দুজনার হাত পর্যন্ত স্পর্শ করার সুযোগ পায়নি এই জুটি।
তাদের প্রেম সম্পর্কে তারেক জানিয়েছেন,' আমাদের মধ্যে পাঁচ বছেরের প্রেমের সম্পর্ক থাকার পরও আমরা দুজন দুজনার হাত পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারিনি। তার পরিবারে বিয়ের প্রস্তাব দেয়াটা ছিল তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার সময়ই আমি খুবই দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। হোউদিয়া রাজি না হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক কারণ এটা ছিল সমাজের নিয়মের বাইরে। তার পরও হোউদিয়া আমার প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। এটা ছিল আমার প্রত্যাশারও বাইরে।'
সূত্র: বিবিসি
