পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চুক্তি নিয়ে হতাশা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৪৮

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর রাজধানী লিমায় চলমান বিশ্ব জলবায়ুু সম্মেলন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যায়নি। উন্নত, উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত এবং দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দোষারোপের কারণে শুক্রবার (স্থানীয় সময়) গভীর রাত পর্যন্ত চলে সম্মেলন। এ রিপোর্ট  লেখা পর্যন্ত চুক্তি নিয়ে হতাশার সুরই বাজছিলো সকল পক্ষের মুখে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোর দাবির মুখেও উন্নত দেশগুলো গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দেয়ায় আয়োজকরা সম্মেলনের সময় আরো একদিন বাড়িয়ে দেন। সে অনুযায়ী গতকাল শনিবার সম্মেলন শেষ হয়ে যাবার কথা।

লিমা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসার কথা। বিশেষ করে আগামী বছর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনের জন্য একটি চুক্তির খসড়া নির্ধারণের কথাও রয়েছে পেরুতে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলো এ চুক্তি সইয়ের আগে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তারা বলছে, দূষণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে উন্নত দেশগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাদের দায় সারছে। এর আগেও তারা এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও দূষণের মাত্রা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সুতরাং এ সম্মেলনে দূষণ কমানোর বিষয়ে উন্নত দেশগুলো থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসার আগে তারা প্যারিস চুক্তির খসড়ায় সই করবে না।
ক্লিন এনার্জি ফান্ড নিয়েও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এ খাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রাথমিকভাবে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি এসেছে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। তাও আবার বেশ কয়েক বছরে দেবার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর ২০২০ সাল নাগাদ যে ১০০ বিলিয়ন ডলার যোগান দেয়ার কথা চলছিলো তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। এ বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোন বক্তব্য আসেনি।
ভারতের প্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এ বিষয়ে আমরা হতাশ হয়েছি। উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে তারা প্রতিবছর গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে ১০ বিলিয়ন ডলার করে দিলেও এখন তা কমাতে চাইছে। ওই প্রতিনিধি আরো বলেন, আমরা শুধু হতাশ হচ্ছি। গ্রিন ফান্ডে বছরে আড়াই বিলিয়ন ডলার যদি দেয়া হয় তাহলে তা হবে প্রতারণার শামিল। 
মালদ্বীপের পক্ষ থেকে নেগোশিয়েশনের দায়িত্বে নিয়োজিত আহমেদ শারির বলেন, গত ২০ বছর ধরে জলবায়ু সম্মেলন হচ্ছে। কিন্তু এর ফল খুব কমই হচ্ছে। লিমা সম্মেলনও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে শারির আরো বলেন, ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক ফল পেতে আমাদের আর কয়টা সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে? আমরা প্রতিটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে আমাদের দুর্দশার কথা বলে আসছি। আমাদের নানা আশার কথাও শোনানো হয়। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির ব্যবধান প্রতিবছর বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, ১০০ বিলিয়ন ডলারের যে প্রতিশ্রুতি উন্নত দেশগুলো থেকে এসেছে তা কিভাবে পাওয়া যাবে তা-ও স্পষ্ট নয়। বিষয়টা এমন যে একটি সুন্দর শো-কেস আমাদের সামনে সাজানো আছে আমরা তা ছুঁতে পারছি না, অধিকারও প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না। আমরা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি।
লিমা সম্মেলন থেকে সাত পৃষ্ঠার একটি খসড়া ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হলেও মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এ বিষয় তিনটিকে ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে উন্নত এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস। তবে যুক্তরাষ্ট্র কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিলেও অন্যান্য উন্নত দেশগুলো চাচ্ছে ক্ষতি মোকাবেলায় অর্থায়ন করতে।

য়ুক্তরাষ্ট্র্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আমরা এখনো ঝুঁকির মধ্যে বাস করছি। লিমা থেকে একটি চুক্তি বের করে আনা কোন বিকল্প নয়, এটি অত্যাবশ্যকীয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে কোন দেশ মুক্ত নয়। তিনি বলেন, আমি জানি দূষণ কমিয়ে আনা উন্নয়নশীল দেশের জন্য কষ্টকর হবে। কিন্তু তাদের স্মরণ রাখতে হবে যে, সারাবিশ্বে যে দূষণ হচ্ছে তার অর্ধেক আসছে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে। চীনসহ আরো অনেক দেশ লিমা চুক্তির বিরোধিতা করছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে যে এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ।