উপবৃত্তি পাবে উচ্চ মাধ্যমিকের দরিদ্র শিক্ষার্থীরাও

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৪৭

সারাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত ১৭ লাখ ৩ হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হবে। বিজ্ঞান বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগ এই দুই ক্যাটাগরিতে এই উপবৃত্তি দেয়া হবে। বিজ্ঞান বিভাগে উপবৃত্তি প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী মাসিক বৃত্তি হিসেবে ১৭৫ টাকা ও টিউশন ফি বাবদ ৫০ টাকা পাবে। সেই সাথে বই ক্রয় ও পরীক্ষা ফি বাবদ এককালীন ১ হাজার ৬০০ টাকা পাবে। অপরদিকে অন্যান্য বিভাগ থেকে উপবৃত্তি প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী মাসে ১২৫ টাকা বৃত্তি ও ৫০ টাকা টিউশন ফি পাবে। এছাড়াও এককালীন বই ক্রয় ও পরীক্ষা ফি বাবদ একত্রে ১ হাজার ২০০ টাকা পাবে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত মোট নারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ ভাগ এবং পুরুষ শিক্ষার্থীদের থেকে ১০ ভাগকে এ উপবৃত্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) গতকাল উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৫১৩ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৭ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। গতকাল শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ  হাসিনা।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদিত প্রকল্পটি ছাড়াও উপবৃত্তি সংক্রান্ত আরও ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মাধ্যমিক, একটি উচ্চ মাধ্যমিক ও একটি স্নাতক পর্যায়ে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। যেসব এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থী এখনও উপবৃত্তির আওতায় আসেনি তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সভায় ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে মোট ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। মোট ব্যয়ের পুরোটাই সরকারি অর্থায়ন। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ৫টি নতুন এবং ১টি সংশোধিত প্রকল্প।

গতকাল সরকারি বিদ্যালয়বিহীন ৩১৫টি উপজেলা সদরে অবস্থিত নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহকে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেয়া হয়। ২০০৯ সাল থেকে প্রকল্পটির কাজ চলমান আছে। গতকাল সভায় প্রকল্পটির সমাপ্তিকাল ডিসেম্বর ২০১৪ থেকে বাড়িয়ে জুন ২০১৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। সেই সাথে প্রকল্পটির ব্যয় ৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫৫৮ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল কমপাউন্ডের নির্মাণাধীন ৭ মার্চ ভবনকে ১১ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে— পাকুয়া-দেলদুয়ার-এলাসিন সড়কের ১২তম কিলোমিটারে এলেনজানী নদীর ওপর ৯৩ দশমিক শূন্য ২ মিটার নাল্লাপাড়া পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং বালিয়া-ওয়ার্শি-মির্জাপুর সড়কে ২টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, রংপুরে গ্রামীণ উন্নয়ন একাডেমি এবং নীলফামারী ও নেত্রকোনা জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং রংপুর মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।