ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে যাওয়ার ওইসব ঋণের ঝুঁকির বিপরীতে অর্থসংরক্ষণের (প্রভিশন) ঘাটতির পরিমাণ কমেছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিক ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন করার প্রয়োজন ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকের তুলনায় যা ২ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা কম। একই সময়ে খেলাপি ঋণ সাত হাজার ১৩৬ কোটি টাকা কমে আসায় প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও প্রভিশনিং প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চারটি ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে দুই হাজার ৪১১ কোটি টাকা। তিন মাস আগে গত সেপ্টেম্বর শেষে ঘাটতি আটটি ব্যাংকের ঘাটতি ছিলো তিন হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা।
প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমায় ব্যাংক খাতের সামগ্রিক ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭৯৬ কোটি টাকায়। আগের প্রান্তিক শেষে সামগ্রিক ঘাটতি ছিলো দুই হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।
২০১৩ সালের ডিসেম্বর ব্যাংকগুলোর প্রভিশনের প্রয়োজন ছিলো ২৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। ওই সময়ে পাঁচটি ব্যাংকের ঘাটতির কারণে সামগ্রিক ব্যাংক খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিলো ২ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, দেশের ব্যাংকগুলোকে ঋণের ঝুঁকি বিবেচনায় নির্দিষ্ট একটি অংশ প্রভিশন করতে হয়। ব্যাংকগুলোর মুনাফা থেকে প্রতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে যা রাখতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দিষ্ট হার ঠিক করে দিয়েছে। সে হিসাবে তিন মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ (সাব স্ট্যান্ডার্ড/ নিন্মমান) ঋণের বিপরীতে ২০ শতাংশ, ছয় মাসের বেশি মেয়াদোত্তীর্ণ (ডাউটফুল/সন্দেহজনক) ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং এক বছরের বেশি (ব্যাড-লস/ মন্দ) ঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। ফলে খেলাপি ঋণ কমলে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমে। আর প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমলে ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে এসে খাত ভিত্তিতে শুধুমাত্র বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলো ছাড়া অন্য সবার উদ্বৃত্ত রয়েছে। এসময়ে বিশেষায়িত খাতের কৃষি ব্যাংকের দুই হাজার ৭৪ কোটি এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ১৮৪ কোটি টাকা ঘাটতির ফলে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বেসিকসহ পাঁচটি ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় ৬৬৯ কোটি টাকা বেশি সংরক্ষণ করেছে। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে বেশি রয়েছে ৬৭২ কোটি টাকা। তবে বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ৪৬ কোটি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ১০৭ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। আর বিদেশী ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত রয়েছে ৯৬ কোটি টাকা।
