ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনের বেশি নিহত

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:২৯


ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার সরকারি বাহিনী ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এ লড়াইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। খবর এএফপির।
মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, চলমান লড়াইয়ের মুখে রেডক্রস গতকাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জরুরি ত্রাণ-সহায়তা পাঠাতে পারেনি। এতে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ত্রাণকর্মীরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি শিয়া বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে।
চিকিৎসক ও সামরিক সূত্র বলছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবো মনসুর হাদির অনুগত বাহিনী এবং হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জন নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীরা এই বন্দর নগরী দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এডেন থেকে ১২০ কিলোমিটার উত্তরে দেলে শহরে গতরাতে ভয়াবহ লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৯ হুতি ও ১৫ জন হাদিপন্থী মিলিশিয়া নিহত হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আবিয়ানে নিহত হয়েছে সাতজন।
আরব বসন্তের সময় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র প্রতি বিশ্বস্ত পক্ষত্যাগী সেনা ব্রিগেডের শক্ত ঘাঁটি আবিয়ান প্রদেশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে হাদির অনুগত যোদ্ধারা। সালেহ হুতি বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবিয়ান প্রদেশের কাছে আল আনন্দ বিমান ঘাঁটি এবং লাজে একটি সামরিক ক্যাম্পে সৌদি জোটের বিমান হামলায় ১০ বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। এছাড়া শাবওয়া প্রদেশে আরো অনেকে নিহত হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে ইয়েমেনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে বিদ্রোহী শিয়া মুসলিম গোষ্ঠি হুতি’র যোদ্ধারা রাজধানী দখল করে নেয়। এক মাস আগে তারা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করে প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবো মনসুর হাদি ও তার সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে। এরপর হাদি গৃহবন্দীত্ব থেকে দক্ষিণাঞ্চলের এডেন নগরীতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। গত মাসে হুতি ও বিদ্রোহী সেনা ইউনিটের সদস্যরা এডেন নগরীর দিকে অগ্রসর হলে হাদি সৌদি আরব চলে যান।
জাতিসংঘের মতে, ইয়েমেনের বৈধ সরকারের প্রধান হলেন হাদি। আর তার ‘নির্বাচিত বৈধ সরকারকে রক্ষায়’ হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৬ মার্চ বিমান হামলা শুরু করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর জোট বাহিনী।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছে ইরান।
রেডক্রস জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহে অবিলম্বে ২৪ ঘন্টার অস্ত্রবিরতির আহবান জানিয়েছে। সংস্থাটি ৪৮ মেট্রিক টন বিশিষ্ট চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সামগ্রী ইয়েমেনে পাঠাতে অবিলম্বে স্থল, নৌ ও বিমান পথ খুলে দেয়ারও আহবান জানিয়েছে।
সংস্থার মুখপাত্র মারিয়া ক্লেইরি ফেগহালি সতর্কবাণী করেছেন, নগরীতে মানবিক পরিস্থিতি ‘খুবই করুণ’।
তিনি বলেন, ‘লোকজন খাবার কিনতে বাইরে যেতে পারছে না। আমরা জানি, নগরীতে পানির সংকট রয়েছে। কারণ পানির পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত করার চেষ্টা করছি। তবে পরিস্থিতি খুবই কঠিন।’
রেডক্রস বলেছে, ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে ত্রাণবাহী একটি বিমান প্রস্তুত রয়েছে। তবে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে অবতরণ সমস্যার কারণে বিমানটি এখনও টারমাক ছাড়তে পারেনি।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) মহিলা মুখপাত্র সিতারা জাবীন বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, ‘চিকিৎসা সামগ্রীবাহী একটি মালবাহী বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা সামগ্রীবাহী বিমানের ইয়েমেনে যাওয়ার অনুমতি আছে। তবে অবতরণের জন্য উল্লেখযোগ্য কিছু সমস্যা রয়েছে। ইয়েমেনে অনেক কম সংখ্যক বিমান অবতরণ করছে। আমরা এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
রেডক্রস এডেন নগরীতে অস্ত্রোপচারকারী একটি দল পঠানোরও চেষ্টা করছে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।