নেপালে শনিবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ২৪শ’ ছাড়িয়েছে। ৩২ ঘন্টার বেশি সময় পার হলেও ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞের পুরোপুরি চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। গতকাল রবিবারও ৬ দশমিক ৬ মাত্রার একটি আফটারশক বা ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন হলে নেপালে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আফটারশকের ধাক্কা বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশেও কম-বেশি অনুভূত হয়েছে। রাস্তাঘাট ধসে পড়ায় উদ্ধার এবং ত্রাণ তত্পরতা চালানো কঠিন হচ্ছে। বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতসহ বিশ্ব সমপ্রদায় উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসেছে। খোলা আকাশের নীচে রাত কেটেছে সাধারণ মানুষের। নিহতদের মধ্যে তিনজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। নেপাল সরকারকে এক সপ্তাহ আগেই সতর্ক করেছিলেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। খবর বিবিসি, রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও ডন’র।
ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে
প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে এখনো রাজধানীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পাহাড়ের বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। অনেক রাস্তায় ফেটে গেছে। ফলে সেখানকার পরিস্থিতি আসলে কি তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা এখন হেলিকপ্টারে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু রাজধানী কাঠমান্ডুতেই মারা গেছেন ৭শ’ জনের বেশি মানুষ। আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আহতদের এখনো হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। চিকিত্সকরা আশঙ্কা করছেন, বিশেষ করে রবিবারের আফটারশকের পর আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তাদেরকে চিকিত্সা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ওষুধ সামগ্রী খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
উদ্ধার তত্পরতা
উদ্ধারকর্মীরা এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। রাজধানী কাছমান্ডুর আকাশে চক্কর দিচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার। যেসব জায়গায় খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এসব হেলিকপ্টারে করে, সেখানে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কাঠমান্ডুতে এরকম পাঁচটি জায়গায় এধরনের উদ্ধার তত্পরতা চলছে। কাজ চলছে রাস্তাঘাট পরিষ্কারের। খালি হাত দিয়েই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে লোকজনকে উদ্ধারের কাজ চলছে। শহরের মাঝখানে প্যারেড গ্রাউন্ডে তাবু বসানো হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তারা বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার আর ত্রাণ তত্পরতার কাজে, দেশটি বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়েছে এবং এজন্য জরুরি ভিত্তিতে তাদের ত্রাণ সাহায্য প্রয়োজন। বিশ্ব নেতারা এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলিও এই আহবানে সাড়া দিচ্ছে। আমাদের নয়াদিল্লি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রত্যন্ত এলাকায় হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে ভারত। এছাড়া বাংলাদেশও একটি দল পাঠাচ্ছে সেখানে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আফটারশক
আফটারশক বলতে ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পনকে বোঝায়। গতকাল এই আফটারশকের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭ মাত্রার। উত্পত্তিস্থল ছিল রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৪০ মাইল পূর্বে। এই কম্পন বাংলাদেশ এবং ভারতেও অনুভূত হয়েছে। পোখরা শহরে হাসপাতালের বাইরে লোকজনকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। কারণ তারা হাসপাতালে ভবনের ভেতরে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। কাঠমান্ডু হাসপাতালে আহতদের জায়গা না হওয়ায় তাঁবুতে অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হয়েছে। বিপদে আছেন যারা আগে থেকেই হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য এসেছিলেন।
এই আফটারশক অনুভূত হয়েছে মাউন্ট এভারেস্টেও। যারা পর্বতারোহন করতে যান, তাদের মধ্যেও এই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার ভূমিকম্পের পর তুষারধসে সেখানে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। হিমালয়ের এতো বড় দুর্ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।