অতিরিক্ত বিদ্যুত্ প্রবাহে ভোগান্তিতে চট্টগ্রামবাসী

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৫, ০৯:৩১

বিতরণ লাইনের জরাজীর্ণতায় বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে না চট্টগ্রামের গ্রাহকরা। প্রতিবার এক ঘণ্টা করে দিনে ৫/৬ বার বিদ্যুত্ আসা-যাওয়া করে। পিডিবি কর্মকর্তাদের দাবি, এটি বিদ্যুতের লোডশেডিং নয়, ওভারলোডের কারণে বিদ্যুত্ বিভ্রাট হচ্ছে। গত আট বছরে চট্টগ্রামের বিতরণ লাইনে বড় ধরনের কোন সংস্কার কাজ হয়নি। বিতরণ লাইন মেরামত, নতুন লাইন স্থাপন ও সাব স্টেশন নির্মাণের জন্য এক হাজার ৯৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুত্ বিভ্রাট আর হবে না বলছেন পিডিবি কর্মকর্তারা।

 
পিডিবি সূত্র জানায়, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর বিতরণ লাইনের সংস্কার প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ে কাজটি না হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রাম জোনে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা) বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট। তাপমাত্রা বাড়লে চাহিদা আরো বেড়ে যায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে চাহিদা ৭০০ থেকে ৭৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে ছিল। তবে দেশে সার্বিক বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আগের মতো নেই। চট্টগ্রামে চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও বিতরণ ব্যবস্থা জরাজীর্ণ হওয়ায় গ্রাহক ভোগান্তি নিরসন হচ্ছে না।
 
নগরীর খাজা রোডের বাসিন্দা আবদুল মতলব জানান, দৈনিক কমপক্ষে ৫/৬ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিবারে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকছে না। বিদ্যুত্ অফিসে এই বিষয়ে জানতে চাইলে লাইন মেরামতের কাজ চলছে বলা হয়। শুধু খাজা রোডে নয়, নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কালুরঘাট বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘জরাজীর্ণ সাব স্টেশন বিদ্যুতের লোড নিতে পারছে না। ওভার লোডের কারণে অনেক সময় কয়েকটি ফিডার কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। তবে কোন লোডশেডিং নেই। নতুন একটি সাব স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এটি হলে গ্রাহক ভোগান্তি লাঘব হবে।’
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০০৮ সালে বিতরণ লাইনের কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। এর পরবর্তীতে আর কোন সংস্কার কাজ হয়নি। সম্প্রতি বিতরণ লাইন সংস্কারের জন্য এক হাজার ৯৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভির ১৬৩ কিলোমিটার পুরনো লাইন সংস্কার, ১১ কেভির ৩০০ কিলোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পে দেড় হাজার নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। বৃহত্তর চট্টগ্রামে বিদ্যুত্ বিতরণ লাইন রয়েছে ৮ হাজার ৫৩ কিলোমিটার। আর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ।
 
সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুত্ যাচ্ছে সন্দ্বীপে
 
প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এই প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ৮০ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডের সঙ্গে সন্দ্বীপকে যুক্ত করা হবে। এই সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। প্রকল্পে ১৪টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র বসানো হবে। এর মধ্যে কক্সবাজারের রামুতে একটি, বান্দরবানে দুইটি ও বাকি ১২টি চট্টগ্রাম মহানগরীতে স্থাপন করা হবে। উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র আহ্বানের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আরো নতুন ৫ লাখ গ্রাহক বিদ্যুত্ সংযোগ পাবে।
 
এদিকে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো চালু রাখতে চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সাশ্রয় হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুত্ কেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সব গ্যাস কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পুরনো বিদ্যুত্ কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি লেগেই রয়েছে। গত এক সপ্তাহ যাবত্ রাউজান বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল খালেক ইত্তেফাককে বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হতে আরো ১০ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে। অন্যদিকে উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিকলবাহায় অবস্থিত ৬০ ও ১৫০ মেগাওয়াটের গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্র দু’টি থেকে দৈনিক ১৮০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে।
 

পিডিবি চট্টগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামের বিতরণ লাইন অনেক আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এখন কোন বিদ্যুতের লোডশেডিং নেই। ওভার লোডের কারণে বিদ্যুত্ বিভ্রাট হচ্ছে। গৃহীত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুত্ বিভ্রাট থাকবে না।