ভারতে চা উত্পাদনের জন্য প্রসিদ্ধ দার্জিলিংয়ে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে কমপক্ষে ৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরো অনেকে আটকা পড়ে থাকার আশংকা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মিরিক, কালিমপং ও দার্জিলিং শহরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভূমিধসে ঢালের ওপর নির্মিত বিভিন্ন বাড়িঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে। এরপর উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের অনুসন্ধানে ওইসব এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার অমিত পি জাভালগি বলেন, মিরিক থেকে সবচে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কালিম্পং থেকে ৫ জন ও দার্জিলিং শহর থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মিরিক ও কালিম্পংয়ের বিভিন্ন জায়গায় কাদামাটি ও পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। তিনি বলেন, কালিম্পংয়ে কমপক্ষে ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় এখনও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উদ্ধার কাজ চলছে।’
এর আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক অনুজ শর্মা বলেছিলেন, মিরিক, কালিম্পং ও দার্জিলিং শহর থেকে মাটি কেটে কমপক্ষে ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। কলকাতা থেকে তিনি জানান, ভূমিধসে পাহাড়ের ঢালে নির্মিত বেশ কিছু বাড়িঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তিনি বলেন, ‘অনেক লোক মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে আমাদের আশংকা।’
জানা গেছে ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি দূকুল উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। একারণেই এই ভূমিধস হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ৪ লাখ রুপি করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া আহতরা পাবে সোয়া এক লাখ রুপি।
