দেড়কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাইছে ‘ঘড়ি বালক’

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৫, ১৪:০৪
‘ঘড়ি বালক’ হিসাবে পরিচিতি পাওয়া টেক্সাসের স্কুলছাত্র আহমেদ মোহাম্মেদকে হয়রানির করায় তার পরিবার নগর এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দেড় কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। অন্যথায় দুই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
 
সোমবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে আর্ভিং নগর কর্তৃপক্ষ এবং ম্যাকআর্থার স্কুলে আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছেন আহমেদ পরিবারের আইনজীবীরা। ‘ঘড়িকাণ্ডে’ আহমেদের গ্রেফতার ও অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে ওই ঘটনার জন্য দুই কর্তৃপক্ষকেই লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে চিঠিতে। সোমবার দেয়া এই চিঠিতে বলা হয়, পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে দাবি করা অর্থ ও লিখিতভাবে ক্ষমা না চাইলে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে তার আইনজীবীরা। 
 
নগর কর্তৃপক্ষের কাছে এক কোটি এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫০ লাখ ডলার দাবি করেছে। এই অর্থ না পেলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলা করা হবে চিঠিতে জানানো হয়েছে।   চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ঘটনা বিশ্বের গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে ওঠে এবং ওই কিশোর নানা ধরনের হুমকির শিকার হন, যার ফলে তিনি ‘গভীরভাবে মানসিক বিপর্যয়ের’ শিকার হন।
 
গত সেপ্টেম্বরে নিজের তৈরি করা একটি ঘড়ি শিক্ষকদের দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকআর্থার স্কুলের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী আহমেদ। কিন্তু তার ঘড়িটিকে বোমা ভেবে পুলিশে খবর দিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় সেসময় বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যবহারকারীরা আহমেদের সমর্থনে ‘আই স্ট্যান্ড উইথ আহমেদ’ ও ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ফর আহমেদ’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে লাখ লাখ ক্ষুদে বার্তা ছাড়ে।
 
IMG0
 
অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিও আহমেদের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দেন। ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও সবাইকে আহমেদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। পরে অবশ্য তাকে বাবা-মার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।  প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আহমেদকে তার বানানো ঘড়ি নিয়ে হোয়াইট হাউসে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান।
 
স্কুল কর্তৃপক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চিঠির জবাব দেবে জানালেও নগর কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ঘড়ি কাণ্ডের পর আহমেদ আর ম্যাকআর্থার স্কুলে ফিরবেন না বলে তার পরিবার জানিয়েছিল। ১৪ বছর বয়সী আহমেদ বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে কাতারের দোহায় রয়েছেন। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।