আফগান তালেবান গোষ্ঠীর শীর্ষনেতা মোল্লা আখতার মনসুর ‘নিহত’ হওয়ার পর দলটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে মৌলভি হাইবাতুল্লাহ আকহুনজাদাকে নির্বাচন করেছে। পাকিস্তানি টেলিভিশন ‘চ্যানেল ২৪’ কে উদ্ধৃত করে সিনহুয়া শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে।
আকহুনজাদা তালেবানের উপপ্রধান এবং জঙ্গি-সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীটির সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাকেই অন্তর্বর্তীকালীন দলনেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
অবশ্য শুক্রবার তালেবান গোষ্ঠীর একজন মুখপাত্র শীর্ষনেতা আখতার মনসুরের নিহত হওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ভিত্তিহীন’ এবং শত্রুপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন।
মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ওই মুখপাত্র। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরোয়, আফগান তালেবান গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা মোল্লা আখতার মনসুর গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন।
IMG0
আফগানিস্তানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদুল রশিদ দোস্তামের মুখপাত্র সুলতান ফাইজি টুইটারে লিখেন, তালেবান নেতা মোল্লা আখতার মনসুর আহত অবস্থায় মারা গেছেন।
তালেবান নেতা মোল্লা আমির খান মুত্তাকির বরাতে সিনহুয়া জানায়, মোল্লা আখতার মনসুর বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। এর আগে বিবিসি জানিয়েছিল, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এই গোলাগুলি শুরু হয়। এতে তালেবান গোষ্ঠীর সশস্ত্র চার সদস্যও মারা গেছেন।
জুলাইয়ে তালেবান গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের মৃত্যুর খবর ঘোষণার পর মোল্লা মনসুরকে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা মনোনীত করার বিষয়টি এই ইসলামপন্থী মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীটির মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি করে।
তালেবানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জ্যেষ্ঠ নেতা মনসুরের নেতৃত্ব মানতে অস্বীকৃতি জানান। এমন কী গেল মাসে সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীটিতে মোল্লা মোহাম্মাদ রাসুলের নেতৃত্বে ভাঙনেরও সৃষ্টি হয়।
তালেবানের বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আবদুল্লাহ সারহাদি নামে এক জঙ্গির বাসায় গোলাগুলি চলার সময় মোল্লা মনসুর ও তার দেহরক্ষীরা সেখানে ছিলেন।
সারহাদি যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ান্তানামো বে কারাগারে বেশ কয়েকবছর বন্দি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তালেবানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
ঠিক কী কারণে কোয়েটায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটল তা পরিষ্কার নয়। তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমর ২০১৩ সালে মারা গেলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে তার মৃত্যুর খবর গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল। আইএএনএস।
