ফের পতনের বৃত্তে পুঁজিবাজার

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৬, ২২:০১
পুঁজিবাজার ফের পতনের বৃত্তে আটকে গেছে। গত ৫ কর্মদিবস ধরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দরপতন হচ্ছে। এসময়ে ডিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক কমেছে ১৪০ পয়েন্ট। 
 
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সমন্বয়ের (এক্সপোজার) সময়সীমা না বাড়ানোর ফলে নানা গুজব উঠেছে। বলা হচ্ছে, সমন্বয়ের সময় না বাড়ালে ব্যাংকগুলোকে অনেক শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এ প্রেক্ষিতে বাজারে দরপতন হচ্ছে। তাই শেয়ারবাজারের স্বার্থে দ্রুত এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত চান বাজার সংশ্লিষ্টরা।
 
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসেবে না ধরার ফলে ব্যাংকগুলোকে অনেক বেশি শেয়ার বিক্রি করতে হবে না। তাই বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো হয়নি। তবে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকে ব্যাংকের হিসাবে না ধরার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। তবে বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো হলে ব্যাংকগুলোকে কোন শেয়ারই বিক্রি করতে হবে না। তাছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। এমনিতেই বাজারে আস্থার সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
 
বাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক প্রেসিডেন্ট এ হাফিজ বলেন, বাজারে বড় সমস্যা হলো আস্থার সংকট। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা একেবারেই নেই। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের অভিভাবককে এগিয়ে আসতে হবে। আস্থা বাড়তে হবে। বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, ভয়ের কিছু নেই।
 
একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে একই কথা। তারাও বলছেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়কে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। তবে বর্তমানে যেভাবে দরপতন হচ্ছে এর পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে কীনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তারা। অন্যথায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা আরও বাড়তে থাকবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, দৈনন্দিন ভিত্তিতেই বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিএসইসি। তাই দরপতনের ক্ষেত্রে বিএসইসির পক্ষ থেকে যা করা দরকার তা পূর্ণ গুরুত্ব দিয়েই করা হবে। তিনি বলেন, বাজারের সার্বিক উন্নয়নে বিএসইসির পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। আশা করি, খুব শিগগির বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসবে।