পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে নারদ নিউজ ডটকম ওয়েবসাইটের সাড়া জাগানো স্টিং অপারেশনে তৃণমূল কংগ্রেসের ১১ জন নেতা, এমপি, মন্ত্রী ও বিধায়কের ঘুষ নেয়ার ছবি প্রকাশ হওয়ায় আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। অবশেষে নির্বাচনে জিতে এসে সেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্য সচিবালয় নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে মমতা এই নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে।
নারদকাণ্ড ফাঁসের পর মমতা অবশ্য বলেছিলেন, যেহেতু এটা সত্য নয়, ষড়যন্ত্র। তাই এ নিয়ে তদন্তের অবকাশ নেই। তবে নির্বাচনে জিতে এসে ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতেই এই তদন্তের নির্দেশ বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা জানিয়েছেন, আমি চাই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে আসুক। তদন্ত করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে এই ঘটনার পেছনে কোনো চক্রান্ত আছে কি না?
তিনি আরো বলেছেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁরা অবশ্যই শাস্তি পাবেন।
গত ১৪ মার্চ প্রথম ফাঁস হয় নারদ ঘুষ কাণ্ড। ফাঁস হয় তৃণমূলের ১১ জন নেতা, সাংসদ, মন্ত্রী ও বিধায়কের ঘুষ নেয়ার ছবি। নারদনিউজডটকম এই ঘুষ গ্রহণের ছবি ফাঁস করে। এই ছবি ফাঁস হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। বিরোধীরা নারদ ঘুষ কাণ্ডকে হাতিয়ার করে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিল।
মমতাও তখন বলেছিলেন, আগে জানলে তিনি নারদকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেবেন কি না, তা ভেবে দেখতেন। কিন্তু নির্বাচনের পর দেখা যায় নারদ ঘুষ কাণ্ডে যুক্ত প্রায় সব অভিযুক্তই জয়ী হন এবং ফিরে আসেন মন্ত্রিত্বে।
নারদকাণ্ড নিয়ে মামলা হয়েছে আদালতে। সিবি আইর তদন্তের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে চারটি জনস্বার্থ মামলাও হয়েছে। ভিডিওটি জাল কি না, তা পরীক্ষার জন্য হাইকোর্ট থেকে তা হায়দ্রাবাদের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে লোকসভার পাঁচ তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে এথিকস কমিটিও তদন্ত করছে।
