গত ২৩ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না থাকার গনভোটে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। তিনি ইইউতে থেকে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। ভোটের ফল ঘোষণার পরই তিনি আগামী অক্টোবরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কিন্তু দলীয় প্রধান দ্রুত নির্বাচিত হওয়ায় গতকালই তিনি বাকিংহামে প্রাসাদে যান ডেভিড ক্যামেরন। সেখানে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে কথা ছিল। এর আগে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে পার্লামেন্টের উদ্দেশে বের হন ক্যামেরন। পার্লামেন্টে প্রবেশ করার পরই এমপিরা তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। টেলিভিশনের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি যেমন খুশি মনে প্রশ্নের উত্তর দেন। আবার দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের ছেড়ে যাওয়ার জন্য মুখে কষ্টের ছাপও লক্ষ্য করা যায়। শেষ দিনে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে কিছুটা তর্কও হয়। গতকাল পার্লামেন্টে স্ত্রী সামান্থাসহ তার সন্তানরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই সময় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কৌতুকও করেন। ক্যামেরন বলেন, এখন আমি এই পার্লামেন্টের হট্টগোলকে মিস করবেন। তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে কে মেধাবী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আশা করি তিনি ব্রেক্সিট ইস্যু মোকাবেলা করে ব্রিটেনের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবেন। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রাখায় দলীয় এমপিরা এবং বিরোধীদের অনেকে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান। তবে করবিন এবং তার সমর্থক কিছু এমপিরা ওই সময় নিজেদের আসনে বসেছিলেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে যাওয়ার কথা ছিল ক্যামেরনের। এই সময় তিনি কনজারভেটিভ দলের প্রধান তেরেসা মে কে প্রধানমন্ত্রী করতে রানীকে পরামর্শ দেবেন। এর তেরেসা মে রানীর কাছ থেকে সরকার গঠনের অনুমতি নেবেন। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী হন ক্যামেরন।
ব্রিটেনে একদিকে যখন ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডাউনিং স্ট্রিটে যেতে প্রস্তুত তেরেসা মে। গতকাল শেষবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন ডেভিড ক্যামেরন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শেষবারের মতো পার্লামেন্টে অংশ নেন তেরেসা মে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করতে পারেন। অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্নকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকার কিভাবে পরিচালনা করা হবে এবং ইইউ’র সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখা হবে সে বিষয়ে কিছু পরিকল্পনা নিয়েছেন তেরেসা মে।
