কিশোরগঞ্জে লেকসিটি প্রকল্পের সমাপ্তি নিয়ে সংশয়

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৬, ২৩:৫৬
শতাধিক কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীকে কেন্দ্র করে চলমান কিশোরগঞ্জের স্বপ্নের লেকসিটি প্রকল্পের সফল সমাপ্তি নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে চলমান প্রকল্পটির সাড়ে তিন বছরে ৯০ ভাগ কাজের সমাপ্তি দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বেশির ভাগ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেলেও বাস্তবে ৪০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে জানা গেছে।                         
 
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন কয়েকটি ফুটব্রিজ, ওয়াকওয়ে, বিনোদন পার্ক, ওয়াচ টাওয়ার, নদী খননসহ বিভিন্ন কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায়  রয়েছে। শুরু থেকেই তদারকির জন্য একজন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রকল্প এলাকায় তার কোনো অফিস নেওয়া হয়নি। অথচ অফিস নিয়ে অন্যান্য স্টাফসহ পিডির সার্বক্ষণিক প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করার কথা। এ অবস্থায় তদারকি কাজে ব্যাপক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। তবে এলজিইডি দাবি করছে, প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে বাস্তবে শতকরা নব্বই ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ার দৃশ্যমান কোনো আলামত চোখে পড়ে না।
 
সরকার একনেকে ৬৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদনের পর লেকসিটির ধারণা নিয়ে তত্কালীন এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর ‘কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী পুনর্বাসন ও পৌরসভা সংলগ্ন এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে এই কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেন। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর প্রকল্পটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। এই প্রকল্পের আওতায় হোসেনপুর উপজেলার কাউনা এলাকা থেকে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ পর্যন্ত ৩২ কি.মি নদী খনন হাতে নেওয়া হয়। এছাড়া শহর থেকে সিদ্ধেশ্বরী ঘাটের দিকে আরো ৯৪০ মিটার নদী খনন কাজে হাত দেওয়া হয়। শহরের পাগলা মসজিদ এলাকায় ৩৫ মিটার, আখড়া বাজারে ৪০ মিটার, বড়বাজারের মাছ বাজার এলাকায় ৩৫ মিটার, বত্রিশ মেলাবাজারে ৩৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ এবং গৌরাঙ্গবাজার আর একরামপুর ব্রিজের সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের হাতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ১১০ কোটি টাকা করা হয়। নতুন নতুন কাজও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
 
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজসম্পন্ন করার কথা বললেও সেটা বাস্তবে অসম্ভব।
 
ইত্তেফাক/ এ এন