পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক মনস্ক সময় উপযোগী তথা সবল নেতৃত্বের প্রয়োজন। আইনের প্রতি অনুগত, সরকারের আকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং জনগণের চাহিদাকে উপলব্ধি করতে সক্ষম স্থানীয় নেতৃত্বই পারে রাষ্ট্রের ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করতে। তাই রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সাথে সাথে মনে রাখতে হবে দেশ স্বাধীন হয়েছে কাজ করার জন্য, স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সকলকে সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রবিবার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় আরও বলেন, বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলা সমভাবে উন্নত হয়নি। পশ্চাত্পদ জেলা-উপজেলাগুলোর অগ্রগতির জন্য সমন্বয় করে নিজস্ব চাহিদা চিহ্নিত ও নিরূপণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কাজের কথা উত্থাপন করতে না পারলে উন্নয়ন চাহিদা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে অর্জিত হয় না। আবার অর্থ বরাদ্দ পেয়ে কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশ দিলেও যেখানে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন থমকে থাকে সেখানে উন্নয়ন যথাসময়ে সম্পন্ন হয় না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা স্থানীয় নেতৃত্বের দায়িত্বও। জনগণ অসচেতন বা স্থানীয় নেতৃত্ব দুর্বল থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে এবং যার দায় সরকারের উপর চাপিয়ে দিলে প্রকারান্তরে মানুষ তার ন্যায্য হিস্যা বা হক থেকে বঞ্চিত হয়।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, সরকারি বরাদ্দ সব সময়ই জনসংখ্যার ভিত্তিতে বণ্টন হয়। সরকারের আর্থিক সংগতি সম্পর্কে জনগণ, নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের ধারণা থাকতে হবে। অভাব-অভিযোগ তুলে ধরার সময় নিজেদের দিকে তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের দুর্বলতা-সবলতা অনুধাবন করা প্রয়োজন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এ এলাকার অতীতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ করে সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে রাস্তার কিছু গাছ কেটে, দু’-চারটা পটকা ফাটিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হবে না। দেশে আইন-শৃঙ্খলা অটুট রাখতে প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিকট অতীতে এ অঞ্চলে কিছু সন্ত্রাসমূলক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এ কারণে দেশ-বিদেশে এ অঞ্চলের ভাবমূর্তি অনেকটা নেতিবাচক হওয়ায় তা সামাল দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা বেশ দুরূহ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এলাকাবাসীকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। সন্তান-সন্ততি, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি যেমন বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয় বা দুষ্কর্ম করতে কোনো ব্যক্তি অপচেষ্টা না চালায় সেদিকেও কঠোর নজরদারী করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো তত্পরতা দেখলে বা তার খবর পেলে সাথে সাথে তা প্রশাসনকে জানাতে হবে। জিয়ানগর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ইউএনও মৃধা মোঃ মোজাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভায় পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু আশ্রাফ, উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপি’র আহ্বায়ক আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদা বেগম, ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুল হক, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বেলায়েত হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ হক দুলাল, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার বাবুল, পর্ত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কবির হোসেন বয়াতি, প্রেসক্লাব সভাপতি এইচএম ফারুক হোসেনসহ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সভায় জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রদত্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শংকর কুমার ঘোষের কাছে হস্তান্তর করেন। মন্ত্রী ভাণ্ডারিয়া থেকে জিয়ানগর আসার পথে বন বিভাগের বাস্তবায়নাধীন চরখালী চরে বনায়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এ সময় ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জ্বল, পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপি’র সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য ইউসুফ আলী আকন, ছাত্র সমাজের উপজেলা আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম শিমুল, সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার প্রমুখ তার সাথে ছিলেন।
ভান্ডারিয়া সংবাদদাতা ফজলুর রহমান জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল রবিবার বিকালে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। হাসপাতালে চিকিত্সক ও যন্ত্রপাতির সংকটের কথা জানানো হলে তিনি বিষয়গুলো যথাসময় তাঁকে অবহিত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সভায় কমিটির সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার, সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, সদস্য সচিব ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শাহাদাত হোসেন হাজরা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার, ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিলনসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
ইত্তেফাক / এ এন
