পাঁচ বছরে ঘটেছে শতাধিক দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৯ জন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নাটোর অংশের ৩০ কি.মিটারে ২০টি স্থানে দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দশটি স্থানে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় শতাধিক মামলাও হয়েছে। ওই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও এসব রোধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার না থাকা এবং সমান্তরালে সার্ভিস রোড স্থাপনের ফলে ক্রমেই দুর্ঘটনা বাড়ছে।
পুলিশের বনপাড়া মহাসড়ক(হাইওয়ে) থানার পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২ নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নাটোর অংশের ৩০ কি.মিটারে ৬০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ২০১২ সালের শেষ দুই মাসে ঘটেছে ১০টি দুর্ঘটনা। এতে তিনজন নিহত ও ৭২ জন আহত হয়েছেন। ২০১৩ সালে ২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১২ জন। আহত হন ৪৩ জন। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৪৭ জন। আহত হন ৫৭ জন।
সর্বশেষ ওই বছরের ২০ অক্টোবর বড়াইগ্রামের রেজির মোড়ে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩৩জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০ জন। এছাড়া ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবরের পর থেকে ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪১টি দুর্ঘটনায় ৭৭ জনের প্রাণহানি হয়। এতে আহত হন ১৪০ জন। এরমধ্যে ২০১৫ সালে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ২১জন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস মোড়ে ট্রাকের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হন। ওই বছরে সর্বমোট আটটি দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। আহত হন ১৪ জন।
বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কটি চালুর পর হতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। কিন্তু দুর্ঘটনা রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ২০১৪ সালে জাতীয় মহাসড়কের ১৪৪টি স্থানকে অতি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। বনপাড়া মহাসড়ক(হাইওয়ে) থানার ইন্সপেক্টর মো. আশরাফউদ্দিন বলেন, মহাসড়কের অধিকাংশ স্থানে বাঁক রয়েছে। বেশির ভাগ দুর্ঘটনা মহাসড়কের টার্নিং পয়েন্টগুলোতেই ঘটছে। তাছাড়া ওই মহাসড়কের সমান্তরালে একটি সার্ভিস সড়ক রয়েছে। কম গতিসম্পন্ন ছোট যানবাহনগুলো ওই সার্ভিস সড়ক দিয়েই চলাচল করে। ফলে মহাসড়ক সবসময় যানজটমুক্ত থাকায় দ্রুতগতির যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে।
ইত্তেফাক/এএন
