আইএসের কৌশল নিয়ে চিন্তিত ছিলেন লাদেন

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৩৯
মৃত্যুর কয়েক মাস আগে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের অধৈর্য, সহিংস কৌশল ও আল কায়েদার ম্রিয়মাণ হয়ে আসা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ওসামা বিন লাদেন। এ সময়টায় বিশ্ব জুড়ে জঙ্গি কার্যকলাপকে উৎসাহিত করতে একাধিক চিঠি লিখেছিলেন ওসামা বিন লাদেন। 
 
আশঙ্কা করেছিলেন, তার ছেলেদের গায়ে ইলেক্ট্রনিক চিপ ইনজেক্ট করে তাকে ফলো করা হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পক্ষ থেকে প্রকাশিত একগুচ্ছ গোপন চিঠিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।  সেই সব নথিতে উঠে এসেছে, ২০১১ সালে যে সময় লাদেনকে হত্যা করে আমেরিকার নেভি সিল, তখনও আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ জারি রাখতে বিশ্ব জুড়ে জাল বিস্তার করেছিল আল-কায়েদা প্রধান। 
 
সেইসব চিঠিতে আল-কায়েদার সমর্থকদের নানা ধরনের নির্দেশ দিতে দেখা গেছে লাদেনকে। তার দেশ ইয়েমেনে ‘আল কায়েদা আরবিয়ান পেনিনসুলা’ (একিউএপি) নামে সংগঠনটি কিভাবে কাজ করছে সে খবরও রাখতেন লাদেন। তাদের একটি চিঠিতে লাদেন লিখেছেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইতে খুব তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই, খুব প্রয়োজন ছাড়া রক্তপাতেরও দরকার নেই। তাতে বড়সড় প্রত্যাঘাত পেতে হতে পারে। যাতে সত্যিকারের যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।’ 
 
তবে একাধিক চিঠিতে আল-কায়েদার সময়ের ভারে ম্রিয়মাণ হয়ে পড়ছে বলে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে লাদেনকে। সব চিঠিতেই স্পষ্ট যে লাদেন তার শত্রুপক্ষ হিসেবে আমেরিকাকেই সামনে রাখতে চান। এমনকি কোথায় কে সংগঠনের মাথায় বসবে সেটা ঠিক করতে তাদের বায়োগ্রাফিক্যাল ডিটেলও পাঠাতে হত লাদেনকে। 
 
ঘনিষ্ঠ জঙ্গিনেতাদের ব্যক্তিগত নানা পরামর্শ দিতেন লাদেন। দীর্ঘদিন বিয়ে না হওয়ায়, এক আল-কায়েদা জঙ্গি হতাশা প্রকাশ করে চিঠি লেখে লাদেনকে। তার প্রত্যুত্তরে অবিবাহিত জঙ্গিদের উদ্দেশে লাদেন পরামর্শ দেয়, ‘যেহেতু এটা একটা চরম পর্যায়, তাই এক্ষেত্রে ‘মাস্টারবেট’ করা যেতেই পারে। তাতে কোনও দোষ নেই।’ এএফপি।
 
ইত্তেফাক/এসএসএ