স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৫ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা শ্রী গোপাল চন্দ্র বর্মন (৬৯)। তিনি কুর্শা ইউনিয়নের কুর্শা গ্রামের মৃত শ্রী ফটিক চন্দ্র বর্মনের ছেলে। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের অগ্নিঝরা ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে জীবন বাজী রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখন তার খবর কেউ রাখেনা। গোপাল চন্দ্র সাইকেল মেরামত করে পরিবারের ভরণ-পোষণ করছেন। এমনকি তার নিজের বসত ভিটা না থাকায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে তার শশুরালয়ে অবস্থান করছেন।
গত সোমবার তারাগঞ্জ বাজারের পুরাতন চৌপথি মোড়ে বাইসাইকেল মেরামত করতে গিয়ে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার শ্রী গোপাল চন্দ্রের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি টগবগে যুবক। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন তৎকালীন গণপরিষদের সদস্য এলাহী বক্স সরকারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা কয়েক যুবক সরাসরি ভারতের টাপুরহাট ক্যাম্পে গিয়ে ২৮ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা, নীলফামারী জেলার ডোমার ও সৈয়দপুরে ৬ নং সেক্টরের অধিনায়ক খাদেমুল বাসারের নেতৃত্বে যুদ্ধ করি। যুদ্ধকালীন সময়ে আমাদের ট্রপস কমান্ডার ছিলেন মোঃ মেজবাহ উদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধের পর এ উপজেলায় অনেক অমুক্তিযোদ্ধা টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে সরকারের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে চলছেন।
তিনি বলেন, আমি বিগত কয়েক বছর ধরে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও জেলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে আমার ডিজি নম্বর (১১০৯৬৬০) সহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে আবেদন করি। সর্বশেষ আবার ২০১৩ সালে অনলাইলে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই শুরু হওয়ায় আমি আশায় বুক বেঁধেছি। মুক্তিযুদ্ধের পর আমার সহযোদ্ধা পেরু বর্মন, বানেশ্বর রায়, নারায়ন চন্দ্র ও প্রাণনাথ তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও আমার আবেদন গেজেটভুক্ত না হওয়ায় নিরাশ হয়ে পড়েছি। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার আকুল আবেদন আমি কোন সরকারী সুযোগ সুবিধা চাইনা। আমি যে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা মরার আগে যেন প্রকৃত সম্মান নিয়ে মরতে পারি।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তারাগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডাঃ আলী হোসেনের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা শ্রী গোপাল চন্দ্রের বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, সে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আমি তাঁকে খুব ভাল করে চিনি। তাছাড়া তারা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তার মধ্যে সোনাতন গোস্বামী, শ্রী অনন্ত চন্দ্র, ও গোপাল ছাড়া সবাই তালিকাভুক্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ২৮ জানুয়ারী তারাগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই শুরু হবে। সেখানে তাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
ইত্তেফাক/এএন
