গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক মনিরুল ইসলাম রতনকে গত ১৩ দিনেও থানায় বা আদালতে হাজির করা হয়নি। রতন পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।
মনিরুল ইসলাম রতনের স্ত্রী ফিরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার (গত ১২ জানুয়ারী) ভোরে পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে বাদশা মিয়ার বাড়ি থেকে পুলিশ ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী রতনকে ধরে নিয়ে গেছে। কিন্তু এখন তার আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছে না।
এ নিয়ে পীরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের কাছে একাধিকবার খোঁজ খবর নিলেও তারা তার ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী কোনো অপরাধ করলে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে আদালতে বিচার করা হোক।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, এমপি লিটন হত্যা মামলায় পুলিশ তাকে খুঁজছে। আবার পরিবার থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে তাকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। হয়তো পালিয়ে থেকেও স্বজনরা এমন অভিযোগ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, এমপি লিটন হত্যার পর পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাপুর উপজেলায় একদিনের ব্যবধানে আ’লীগ ও যুবদলের চার নেতা নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে তারা ১০ ও ১১ দিন পর দুইজন করে বাড়ি ফিরে আসেন। এছাড়া প্রায় সমসাময়িক সময়ে নিখোঁজ হন সুন্দরগঞ্জ জামায়াতের আরো দুই নেতা। তারা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা (পশ্চিম) জামায়াত আমির ইউনুস আলীর ছেলে শিবরামপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম ও একই উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড (রামভদ্র গ্রাম) সদস্য রেজাউল ইসলাম লিটন ওরফে ডিস লিটন। এ নিয়ে তাদের পরিবার থেকে গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার পর এমপি লিটন হত্যা মামলায় পুলিশের হাতে ওই দুই জামায়াত নেতা গ্রেফতার হন। এই দুইজনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম এখন ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে ও রেজাউল ইসলাম লিটন জেল হাজতে আছেন।
ইত্তেফাক/এএন
