মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানায় নিহত ৭ জন ঘোড়াঘাটের একই পরিবারের

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০১৭, ২১:২৯
মৌলভীবাজারে জঙ্গি আস্তানায় নিহত ৭ জন ঘোড়াঘাট উপজেলার ডাঙ্গা গ্রামের লোকমান আলী ও তার স্ত্রীসহ ৫ সন্তান বলে ধারণা করছেন তার শ্বশুর একই উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক। 
 
গত ৩০ মার্চ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাসিরপুর গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে আত্মহননকারী সাতজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। 
 
বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ নিয়ে উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের লোকমান আলীর শ্বশুর আবু বকর সিদ্দিকের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যদের বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়।  
 
আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘২৯ মার্চ রাত ১টার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। কল রিসিভ করার পর আমার বড় নাতনি মোছা. আমেনা খাতুনের কণ্ঠ ভেসে আসে, যাকে লোকমান আলী ২ মাস আগে বগুড়ায় বিয়ে দিয়েছেন। ফোনে তার নাতনি দু-একটি কথা বলার পর তার মা মোছা. সিরিনা আক্তারের হাতে দেয়। সিরিনা আক্তার আমার সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলে। সিরিনা আক্তার জানিয়ে দেয়- আপনারা আমাদের ক্ষমা করবেন। আমাদের সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হবে না। তখন আমি বলি, কয়েকদিন আগেই তোমার নামে আমি ১ বিঘা জমি দিয়েছি। তুমি কোথায় আছো, একটু ঠিকানা বল- আমি সেখান থেকেই নিয়ে আসবো। মেয়ে জানিয়েছিল আমাদের যাওয়ার কোন উপায় নেই। এ সময় আমি বুঝতে পেরেছিলাম পাশেই জামাই লোকমান আলী আছে। পরে বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদে বুঝতে পারি আত্মহননকারী ৭ জনই আমার মেয়ে-জামাই ও নাতনিরা।’
 
এ ব্যাপারে ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
 
অপরদিকে দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
 
আবু বকর সিদ্দিকের ধারণা আত্মহনন কারীরা হলো, লোকমান হোসেন (৪৫), তার স্ত্রী মোছা. সিরিনা আক্তার (৩০), বড় মেয়ে আমেনা খাতুন (২১),  সুমাইয়া (১২), মরিয়ম (১০), ফাতেমা (৭), খাতিজা (৭ মাস)।