একদিকে নেই শিক্ষক অন্যদিকে নেই বিদ্যালয়ের ভবন আর এই দুই মিলে শিক্ষক আর অবকাঠামো সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে লক্ষ্মীপুরে প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা খাতে পরিবেশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তালিকায় জেলার পাঁচ উপজেলার ৭৩১ বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩৮টিতে নেই প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৯৬, রায়পুর উপজেলায় ৩৪, রামগঞ্জ উপজেলায় ৫৬, রামগতি উপজেলায় ২৭ ও কমলনগর উপজেলায় ২৫টি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা।
এছাড়া জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় রয়েছে ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সদর উপজেলার খোদাওয়ান্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিলশাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়পুরের পূর্ব গাইয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমলনগরের চর জগবন্ধু, ডিএম ফলকন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভবনে চলছে পাঠদান।
এদিকে জেলার রামগঞ্জ নাগরাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১৩ সালে জাতীয়করণের পরই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ভবনটি। কিন্তু উদ্যোগ নেওয়া হয়নি নতুন ভবন নির্মাণের। এ অবস্থায় পাঁচ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদানসহ দাপ্তরিক কার্যক্রম। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির। এক্ষেত্রে পদোন্নতি দিতে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। যাচাই বাছাইয়ের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শিঘ্রই পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে ব্যবস্থা নেবে।
ইত্তেফাক/নূহু
