ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়তে যাচ্ছে এবারের বাজেটে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা করার বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। আগামী পহেলা জুন সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী এ প্রস্তাব দিতে পারেন। অবশ্য এর পর বাজেট পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়। দুই অর্থ বছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছয় শতাংশের নিচে ছিল। সার্বিক বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা সোয়া তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব ছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের। অর্থনীতিবিদদের একটি অংশও করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এছাড়া কোম্পানির করহারেও পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির করহারে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে সাধারণ করদাতা ছাড়াও মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে করদাতার জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার জন্য সোয়া চার লাখ টাকা।
সাধারণ ব্যক্তি করদাতার আড়াই লাখ টাকা থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এর পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। অর্থাত্ সাড়ে ৪২ লাখ টাকার উপরে আয় হলে তিনি সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ হারে কর দেবেন।
গত কয়েক বছর ধরেই নিবন্ধিত করদাতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২৮ লাখের বেশি ব্যক্তি আয়করের খাতায় নিবন্ধিত হয়েছে।
ইত্তেফাক/কেকে
