দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। এক্ষেত্রে উচ্চ হারের কর্পোরেট করকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা। তারা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি কর্পোরেট করহারকে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক সভায় উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন তিনি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম।
অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল ইসলাম বলেন, আগে বিনিয়োগ না আসার জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে দায়ী করা হতো। কিন্তু গত তিন বছর ধরে সেই সমস্যা নেই। তবুও বিনিয়োগ আসছে না কেন। বাংলাদেশে কোম্পানির সর্বোচ্চ করহার ৪৫ শতাংশ। এত বেশি কর্পোরেট কর পৃথিবীর আর কোথাও নেই। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে এই করহার ৩০ শতাংশ। এবং আগামী তিন বছরে তারা ধীরে ধীরে আরও কমিয়ে ২২ শতাংশে আনার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও কর্পোরেট করহার কমিয়ে আনার চিন্তা করছে। যুক্তরাজ্যে করহার আমাদের চাইতে অনেক কম। বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ কত সময়ে ফেরত আসবে আর কী পরিমাণ মুনাফা করতে পারবে- তার হিসাব করেই বিনিয়োগে আসে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগের নিরাপত্তাও প্রয়োজন।
এ সময় তিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি শেভরনের বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার উদ্যোগের ইস্যুটি তুলে ধরে বলেন, তারা চলে গেলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ প্রথম অবস্থান থেকে তৃতীয় অবস্থানে চলে আসবে।
বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যানও কর আহরণের ক্ষেত্রে এনবিআরকে আগ্রাসী উল্লেখ করে বলেন, এসব ইস্যুতে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাতে ৩৪টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কর আহরণের ক্ষেত্রে এনবিআরকে কিছুটা আগ্রাসী মনে হচ্ছে। তাদের এ দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। এ সময় কাঙ্খিত বিনিয়োগ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বর্তমানে বছরে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিছু বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসে। এটি আরও তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়া দরকার। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওসিসি) আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আইনটি শিগগিরই পাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি হলে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম একই জায়গা থেকে সম্পন্ন করা যাবে। তবে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থিতিশীলতা, ভালো ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআই
