পুলিশের টিয়ারশেলে চোখ হারানো ঢাকা তিতুমির কলেজের রাষ্টবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান দুইমাস আটদিন পর নিজ গ্রামে ফিরেছেন।
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বালিখাঁ ইউনিয়নের ঢাকিরকান্দা গ্রামে তার বাড়ি। তার বাবা মৃত তহুর উদ্দিন। মা ছুলেমা খাতুন।
গ্রামে পৌছুনোর আগে তিনি দুপুরের দিকে বালিখাঁ ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান প্রতিবন্ধি সার্টিফিকেটের জন্য। সার্টিফিকেরটটি ফুলপুর উপজেলা পরিষদের সমাজ সেবা কার্যালয়ে জমা দিয়ে দপুরের পর তিনি নিজ গ্রাম ঢাকিরকান্দায় পৌঁছেন। তখন স্বজনরা অন্ধ সিদ্দিককে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় এলাকাবাসী সিদ্দিককে একনজর দেখতে তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়।
মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে উচ্চশিক্ষা লাভের আশায় সিদ্দিক ঢাকায গিয়েছিলেন। তখন তার দুচোখে আলো ছিল, ছিল আগামী দিনের ভবিষতের উজ্জ্বল স্বপ্ন। স্বজনরা জনায়, গ্রামের প্রকৃতি তাকে মুগ্ধ করে রাখতো। দুচোখ ভরে সবুজের সে প্রকৃতি দেখতেন তিনি। কলেজ ছুটি হলেই সিদ্দিকুর গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির টানে ছুটে আসতেন নিজ গ্রামে। কিন্ত আজ চোখ মেলে দেখাই তার স্বপ্ন?
চোখ হারানোর প্রতিক্রিয়ায় সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, যার হারিয়েছে সেই বুঝে। দুইদিন বাড়িতে অবস্থানের পর আগামী ১ অক্টোবর এসেনশিয়াল ড্রাগে টেলিফোন অপারেটর পদে যোগদান করবেন তিনি।
সিদ্দিকুরের বড় ভাই নায়েব আলী জানান, সিদ্দিকুর চোখের আলো ফিরিয়ে আল্লাহ্ আমাকে নিয়ে গেলেও কোন দুঃখ ছিল না তার। ভাইয়ের চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ভাই নায়েব আলীর দুঃখের সীমা নেই।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ ইত্তেফাককে জানান, প্রতিবন্ধী জরিপে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী মাস থেকেই তিনি ভাতা পাবেন।
ইত্তেফাক/নূহু
