টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন ৫৫ বছরের এক নারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তিনি বলছিলেন, ‘আপনারা যে বলেছিলেন, মুসলিম নারীদের ইনসাফ দেবেন? এক জন প্রফেসর ২৩ বছরের সংসারকে দু’মিনিটে ভেঙে চলে যাচ্ছে! দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। এই বয়সে আমি কোথায় যাব?’
সম্প্রতি ভারতে ইয়াসমিন নামের ওই নারী একটি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে তার স্বামী খালিদ বিন ইউসুফ খানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন। খালিদ বর্তমানে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান। গত ২৭ বছর তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন।
ইয়াসমিনের দাবি, স্বামী তাঁকে হোয়াটস অ্যাপে এসএমএস দিয়ে তিন তালাক দিয়েছেন। তাকে বাড়ি থেকে বের করেও দিয়েছিলেন। পরে পুলিশের সাহায্যে বাড়িতে ঢুকেছেন। কিন্তু ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিচার না পেলে আমুর উপাচার্য তারিক মনসুরের বাড়ির সামনে তিন সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করবেন তিনি।
স্ত্রীর অভিযোগ এক রকম মেনেও নিয়েছেন খালিদ। বলেছেন, ‘আমি শুধু ওকে এসএমএস দিয়ে তালাক দেয়নি, আরো দু’জন ব্যক্তির উপস্থিতিতে মুখেও সে কথা বলেছি। এ ক্ষেত্রে শরিয়াতে যে সময়সীমার কথা বলা আছে, তা-ও মেনে চলেছি।’
আলিগড়ের এসএসপি রাজেশ পাণ্ডে জানান, ইয়াসমিন এখনও পুলিশে লিখিত অভিযোগ করেননি। তিনি আলোচনার উপরেই জোর দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ কিছু করার থাকে না। তবু আমরা দু’জনকেই ডেকে পাঠিয়েছি।
উল্লেখ্য, তিন মাস আগে তিন তালাক দেয়াকে ‘অসাংবিধানিক, বেআইনি ও ধর্মবিরুদ্ধ’ বলে তা খারিজ করে দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
