প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকিতে কয়রার ৩ লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ০২:০৪

কয়রায় প্রতিনিয়ত দুর্যোগ ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। কোনো প্রকার বাস্তবমুখী নতুন প্রকল্প প্রণয়ন কিম্বা উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই নীরবে-নিভৃতে কেটে গেল আইলার ৮ বছর। দুর্যোগ ঝুঁকিতে এখনো খুলনার কয়রা, দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি ও বাগেরহাটের শরণখোলা, মংলার শত শত পরিবার। সরকারের কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ ও চল্লিশ দিনের কর্মসূচি বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়িত হলেও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি বাস্তবমুখী কোনো পদক্ষেপ। ২০০৯ সালের ২৫ মে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড খুলনার কয়রা উপজেলাসহ গোটা দক্ষিণ উপকূলের জনপদ। আইলার জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে উপকূলের শতাধিক মানুষের প্রাণহানিসহ বিলীন হয় ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট দালানকোটাসহ সবকিছু। শত শত বছরের পুরাতন জনপদগুলোর কোনো চিহ্নই ছিল না।

এ জনপদের জন্য সরকারের নেওয়া কয়রায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আশরাফ হোসেন। তিনি আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়রায় পরিকল্পনা মাফিক বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। সম্প্রতি কয়রা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান আখম তমিজ উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম, কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এনামুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, বিজয় কুমার সরদার, আ. ছাত্তার পাড়, আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু, সরদার নুরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

 বক্তারা বলেন, আইলার ৮ বছর অতিবাহিত হলেও আজও অরিক্ষিত উপকূলের লাখ লাখ মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর মনোবল আর প্রাণশক্তি উপকূলীয় মানুষের সহজাত প্রবণতা। মা মাটি প্রকৃতি যেমন সবকিছু উজাড় করে মানুষকে সহায় করেছে তেমনি  প্রকৃতির রদ্রু রোষেও ক্ষত-বিক্ষত হতে হয় নিমেষেই। তবু শত বাধা-বিপত্তি প্রতিকূলতার মাঝেও লোনা হাওয়ার মানুষগুলো বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন দেখে। সিডরের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই গত ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলায় লণ্ডভণ্ড করে দেয় গোটা উপকূলীয় অঞ্চল। গত ৮ বছরে অনেক চড়াই-উত্ড়াই পার হয়ে নিজের ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছে কয়েক লাখ পরিবার। অবশ্য এখনো মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। অধিকাংশ বাঁধ মেরামত হলেও বেশকিছু বাঁধ রয়েছে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সরকার আইলার মানুষের পাশে থেকে বেঁচে থাকার  অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এ জন্য তারা সরকারের পাশাপাশি, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে  সাধুবাদ জানিয়েছে।

 এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখম তমিজ উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন থেকে ৮ বছর কেড়ে নিলেও সংগ্রাম মুখর জীবনের অধিকারী এ সকল উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ শত প্রতিকূলতার মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কয়রায় দুর্যোগে ক্ষত-বিক্ষত মানুষগুলোর জীবনে এখনও সেই ভয়বহ স্মৃতি রয়ে গেছে। তিনি উন্নয়ন বঞ্চিত খুলনার কয়রা মানুষের শেষ ভরসাস্থল বর্তমান সরকার আইলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এ জনপদের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করবে এ জন্য তিনি সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু