মেলান্দহে মায়ের বিরুদ্ধে শিশু সন্তানকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৭, ০০:৪৪

মেলান্দহ পৌরসভার মলিকাডাঙ্গা গ্রামে গতকাল সোমবার এক মায়ের বিরুদ্ধে তার আট মাসের শিশু সন্তান আল মামুনকে জবাই করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মায়ের নাম মীম আক্তার (২৩)। তিনি দুই সন্তানের জননী। জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার আদিপৈত গ্রামের ফকির আলীর কন্যা মীম আক্তার।

অভিযুক্ত মীম আক্তারের পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গত চার বছর আগে ময়মনসিংহ জেলার বিদ্যাগঞ্জ গ্রামের মীর সুরফাত আলীর পুত্র রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে মীমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মীম আক্তার তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়। একপর্যায়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দুইটি শিশু সন্তানসহ মীম আক্তারকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

এ সময় নিরুপায় হয়ে দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে মীম আক্তার মেলান্দহ আদিপৈত গ্রামে তার বাবার বাড়িতে ওঠেন। কিন্তু অভাবী পিতা ফকির আলী নিজ কন্যা মীম আক্তার ও তার শিশু দু’সন্তানকে ভরণ পোষণ করতে ব্যর্থ হয়। পরে মীম আক্তার তার সন্তান দুটিকে নিয়ে মেলান্দহ উপজেলার মলিকাডাঙ্গা গ্রামে অতি দরিদ্র বিধবা নানী হালিমা বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে উঠে। মীম আক্তারের নানী বিধবা হালিমা বেগম জানান, তার নাতনি মীম আক্তারকে সাথে নিয়ে সোমবার সকালে মেলান্দহ পৌর সভার কাউন্সিলর সাজেদুল হকের বাাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তারা দুটি শিশু সন্ততানসহ চার জনের পেটের ভাতের জন্য সাহায্য কামনা করে, মীমের উপর তার স্বামী ও ম্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের বিচার প্রার্থনা করেন।

পৌর কাউন্সিলর বিচারের আশ্বাস দিলে তারা দুইজনই খালি হাতে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে নানী হালিমা বেওয়া তাদের খাবার জোগাড় করতে যায়। এসে দেশে মীম আক্তারের কাছে খাকা আট মাসের শিশু পুত্র আল-মামুনের গলায় কাটা জখম।

স্থানীয়রা দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনা এলাকাবাসী মেলান্দহ থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত মীম আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এলাকাবাসীর ধারণা মীম আক্তার অভাবের তাড়নায় নিজের সন্তানদের খাবার জোগাড় করতে না পেরে নিজ সন্তানকে জবাই করে হত্যা করে থাকতে পারে।

অভিযুক্ত মীম আক্তার জানান, তিনি নানীর বাড়ির উঠানে বটি দিয়ে বেগুন তরকারী কাটার সময় শিশু আল মামুন কোল থেকে বটির উপর পড়ে গলা কেটে যায়।
 
এ ব্যাপারে মেলান্দহ থানার ওসি মাজহারুল করিম জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও অভিযুক্ত মীম আক্তারকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত মীম আক্তারের বৃদ্ধ নানী ভিক্ষা করে গত ছয় মাস ধরে দুইটি শিশুসহ তাদের জীবন ধারণ করে আসছিল। তবে এটি হত্যা না দুর্ঘটনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এ ব্যাপারে আটক অভিযুক্ত মীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু