দ্বিতীয় ধরলা সেতুর কাজ শেষ উদ্বোধনের অপেক্ষায় লাখো মানুষ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৩০
 
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুলাঘাটে ধরলা নদীর উপর ৯৫০ মিটার পিসি গার্ডার সেতু নির্মান কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। উদ্ধোধনের অপেক্ষায় দিন গুণছেন ফুলবাড়ির লাখো মানুষ।
 
ধরলা নদীর উপর নির্মিতব্য দ্বিতীয় ধরলা সেতুটি উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম সড়ক সেতু। সেতুটি ৯৫০ মিটার দীর্ঘ ৩২ ফিট চওড়া। সকল কাজ শেষ করে রংয়ের কাজ শুরু করেছে। গত দুই দিনেই রঙের কাজও শেষ। নদী শাসনের কাজ শেষ হয়ে ফুলবাড়ী অংশে ৮৪২ মিটার ও লালমনিরহাট অংশে দুই হাজার ৩০ মিটার কার্পেটিং বাদে অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ শেষ হয়ে বৃক্ষ রোপনের কাজও শেষ করেছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন শেষে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আরেফীন খান।
 
শনিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মানকৃত সেতুটির উপর দিয়ে অবাধে অটোরিক্সা ও মটরসাইকেলসহ সাধারণ লোকজন যাতায়াত করছে।
 
অন্যদিকে নদী শাসনের ফলে এ বছর ধরলা পাড়ের যতিন্দ্র নারায়ন, সোনাইকাজী, কবির মামুদ, প্রাণকৃঞ্চ ও পশ্চিম ধনীরাম গ্রাম স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায়ও ভাঙন মুক্ত ছিল।
 
নদী শাসন, অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ও মূল সেতুর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি ৬৩ লাখ ২২৩ টাকা ৫৮ পয়সা। যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। সেতুটি নির্মানের জন্য এলজিইডির বাস্তবায়নে সিমপ্লেক্স এবং নাভানা কনস্ট্রাকশন গ্রুপের সাথে যৌথভাবে চুক্তি সম্পাদিত হয় ২০১৪ সালে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ২০ লাখ জনগণ উপকৃত হবেন। এ এলাকার লোকজনের নৌপথে পারাপারে ভোগান্তি ও সময় ব্যয় হতো অনেক পথ ঘুরে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে বিভাগীয় শহর রংপুরসহ সারা দেশের সঙ্গে। ভুরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট স্থলবন্দরের মালামাল পরিবহনে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেতুটি চালু হলে বঙ্গ সোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে ফুলবাড়ীর দ্বিতীয় ধরলা সেতু দিয়ে ভারতের আসাম রাজ্যসহ অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য গুলির সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের পন্য পরিবহন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। যুগান্তকারী অগ্রগতি ঘটবে বাংলাদেশসহ ভারতের সেভেন সিস্টারস নামে খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের। রাজ্য সাতটি হলো-- আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও অরুনাচল। একই সাথে এসব রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংরাবান্ধা হয়ে কোলকাতার যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্য দিকে কুড়িগ্রাম ও লালমনিহোট জেলার কৃষিজাত পন্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ধরলা
 
এ প্রসঙ্গে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শামসুল আরেফীন খান জানান, আমরা নিরলসভাবে সেতুটির নির্মান কাজ করেছি। আশা করি ফেব্রুয়ারি মাসেই সরকার প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধোধনের মধ্যে দিয়েই জনগণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/এএম