জীবননগরে সাদা পোশাকে আসামি ধরতে গিয়ে হাসুয়ার কোপে তিন পুলিশ সদস্য আহত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:২৮

জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ফাঁড়ির তিন পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হাসুয়ার কোপে মারাত্মক জখম হয়েছেন।  এ সময় হাসুয়া নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে লিটন (৩০) নামের ওই আসামিও রক্তাক্ত জখম হয়েছে।  আহত পুলিশ সদস্য ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।  শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হাসাদাহ মাঝপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্র জানা গেছে, উপজেলার হাসাদাহ মাঝপাড়ার সোনা মন্ডলের ছেলে লিটন হোসেনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।  তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরাসহ আশেপাশের জেলায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও জাল টাকা কারবারীর একাধিক মামলা রয়েছে।  সে দইুটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।  দীর্ঘদিন ধরে সে আত্মগোপনে রয়েছে।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসাদাহ পুলিশ ফাঁড়ির  তিন পুলিশ সদস্য কনেস্টবল শ্রী শৈকত, কনেস্টবল রেজন ও কনেস্টবল রাশেদুল রাতে সাদা পোশাকে লিটনকে গ্রেফতার করতে যায়।  গ্রেফতারের চেষ্টাকালে লিটন তার নিকট থাকা হাসুয়া নিয়ে ওই তিন পুলিশের ওপর হামলা করে।  এ সময় পুলিশ সদস্যরা হাসুয়া কেড়ে নেয়ার চেষ্টা কালে হাসুয়ার আঘাতে তারা আহত হন।  হামলাকারী লিটন এ সময় হাসুয়ার আঘাতে আহত হয়।

জীবননগর হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. রোকনুজ্জামান বলেন, আহত তিন পুলিশ সদস্য ও আসামি লিটন সবাই আশঙ্কামুক্ত।  তারা সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  লিটন বিশেষ পুলিশি প্রহরায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসাদহ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জুম্মাত মন্ডল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি।  আমার জানামতে লিটনের বিরুদ্ধে মাগুরা জেলায় একটি অস্ত্র মামলা ছিল এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দু’টি জাল নোট কারবারির মামলা আদালতে বিচারাধী।

জীবননগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর নাহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লিটন আসলে সন্ত্রাসী প্রকৃতির।  তার বিরুদ্ধে মাগুরা জেলায় অস্ত্র মামলা ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা আদালতে তার বিরুদ্ধে দু’টি জাল নোটের মামলা বিচারাধীন।  ওই মামলায় সে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।  তাকে হাসাদহ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা গ্রেফতার করতে গেলে তাদেরকে কুপিয়ে আহত করে।  আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু