মেহেরপুরে কার্বাইড মিশিয়ে টমেটো পাকানো হচ্ছে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:৩৬
মেহেরপুরে বিষাক্ত রাসায়নিক কার্বাইড দিয়ে কাঁচা টমেটো পাকানো হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় অসময়ে পাকিয়ে এসব টমেটো রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে পাঠাচ্ছেন কৃষকরা। এই টমেটো খেলে কিডনি ও যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
 
মেহেরপুর জেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর সদর উপজেলা, গাংনী উপজেলা ও মুজিবনগর উপজেলার বুড়িপোতা, আমঝুপি, কুতুবপুর, আমদহ, দারিয়াপুর, মহাজনপুর, পিরোজপুর, কাথুলী, কুতুবপুর, বামন্দী, সাহারবাড়ী ,মটমুড়া, ষোলটাকা, ধানখোলা ইউনিয়নের এক হাজার একর জমিতে টমেটো আবাদ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের পর্যন্ত টমেটোর আবাদ চলে। জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পাকা টমেটো সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বেশি দাম পাওয়ার আশায় স্থানীয় কৃষকের জমি থেকে কাঁচা টমেটো তুলে তাতে কার্বাইড ছিটায় বলে জানা গেছে।
 
গাংনী উপজেলার তেরাইল গ্রামের কৃষক গিয়াসউদ্দিন জানান, তাদের ক্ষেতের টমেটো যে সময়ে পাকে সে সময় ভালো দাম পাওয়া যায় না। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিটন পাকা টমেটো ৭/৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে ১ টন টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০ হাজার টাকা। তাই অধিক লাভের আশায় তারা কাঁচা টমেটো ক্ষেত থেকে তুলে কার্বাইড মিশিয়ে  তা পাকাচ্ছেন এবং স্থানীয় পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই সব টমেটো পাইকাররা ট্রাকে করে সিলেট, ঢাকা, বরিশাল বাজার নিয়ে বিক্রি করছে। এ ব্যাপারে মেহেরপুর কাঁচা বাজার আড়ত ব্যবসায়ী সালাম বলেন, 'কার্বাইড দিয়ে পাকানো টমেটোর রঙ ভালো হয়। তাই ভালো দাম পাওয়া যায়। প্রতিদিন মেহেরপুর থেকে কয়েক ট্রাক ভর্তি টমেটো ঢাকাসহ বিভিন্ন মহানগর শহরে বিক্রি হচ্ছে।'
 
কৃষকরা জানান, বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুই দফায় কার্বাইড ছিটানোর পর টমেটো লাল রঙ ধারণ করে। মেহেরপুর সদর উপজেলার ষোলমারী গ্রামের কৃষক রহিম বলেন, 'জমিতে টমেটো পাকাতে অনেক সময় লাগে। বেশি দামে বিক্রি করার জন্য আমরা কার্বাইড মিশিয়ে টমেটো পাকিয়ে থাকি।' 
 
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার জিকেএস শামসুজ্জামান বলেন, কার্বাইড টেক্সটাইল কারখানা ও চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার জানান, কার্বাইড মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ও যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কার্বাইড দিয়ে টমেটো পাকানো ভয়ানক অপরাধ ও জনস্বাস্থ্যর জন্য হুমকি স্বরূপ বলে দাবি করেছে।
 
এ ব্যাপারে মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডক্টর আকতারুজ্জামান বলেন, 'এই ধরনের সংবাদ এখনো আমরা পাইনি। তবে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের চিহ্নিত করে এর কুফল সম্বন্ধে চাষিদের আগেও বলেছি এখনো বলবো এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
 
ইত্তেফাক/এসএস