ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলার জন্য এক নারীকে দু বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কৌসুলি আব্বাস জাফারি-দোলাতাবাদী বলছেন, ওই নারীকে 'নৈতিক দূষণ উৎসাহিত করার দায়ে' দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দণ্ডিত নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
কৌসুলি বলেন, ওই দণ্ডের মধ্যে তিন মাস তাকে প্যারোল ছাড়া কারাভোগ করতে হবে। দণ্ডের বাকি ২১ মাস সময়কাল স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ওই নারীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন, এবং তাকে একজন মনোচিকিৎসককে দেখাতে হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে বেশ কিছু মহিলাকে এ ধরনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েদের প্রকাশ্যে হিজাব পরার আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা নারীদের বেশির ভাগকেই কোন অভিযোগ ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলার সময় একজন তরুণীর প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলে একটি লাঠির মাথায় উঁচিয়ে ধরারি ছবি ব্যাপক প্রচার পায়। তাকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়। তেহরানের একটি ফোন বুথের ওপর দাঁড়ানো তরুণীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে শেয়ার হয়। ইরানে মেয়েদের পোশাকের ব্যাপারে কড়াকড়ির প্রতিবাদ জানাতে বুধবার সাদা হিজাব পরেন সেদেশের নারীরা। সে উপলক্ষেই ওই ছবিটি প্রথম প্রচার পায়।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই সেদেশে নারীদের ইসলামী আইন অনুযায়ী চুল-ঢাকা পোশাক পরতে বাধ্য করা হয়।-বিবিসি।
ইত্তেফাক/কেআই
