পদ্মা-মহানন্দায় পানি কম, হুমকিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৮, ১২:১৯
পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি কমে গেছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থা। আর সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির। নদীর পাড়ে বসবাসকারী লোকজন জানান, শুল্ক মৌসুমে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ৬০ ভাগ এলাকায় চর জেগে উঠে। আর ৪০ ভাগ পানি তিনভাগে বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়।
 
পদ্মা ও মহানন্দা নদীর এমন পরিস্থিতি নভেম্বর থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিরাজ করে। ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে পানি কম থাকায় এ অঞ্চলের পরিবেশ বিপর্যস্ত এর সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জৈববৈচিত্র। নদী দুটির নাব্যতা কম হওয়ায় নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতি বছর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদী থেকে হারিয়ে যাওয়ায় জেলেরা বেকার হয়ে পড়ছে।
 
এ প্রসঙ্গে নদী ও চর বিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে যাচ্ছে এবং বর্ষায় পানি বেড়ে গিয়ে নদীর দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ৮০ভাগ সেচ ভূ-গর্ভের উপর নির্ভরশীল। পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি কমে যাওয়ায় পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে নীচে নেমে যায়। তখন সেচের জন্য বসানো গভীর নলকূপে কম পানি উঠে। বৃষ্টিপাত তেমন না হওয়ায় খরায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল সেচ সংকটে পড়ে। এদিকে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি কমে যাওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করে।
 
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির জন্য বসানো অধিকাংশ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে লোকজন পুকুরের পানি ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম গুলিতে বিশুদ্ধ পানির জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় বলেন, অর্থাভাবে আদিবাসীরা নলকূপ স্থাপন করতে পারে না। তাই তারা বছর জুড়ে বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকটে পশু পাখিও বিপাকে পড়ে।
IMG0
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজ বলেন, এ অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সংকট মোকাবেলায় সরকারিভাবে নলকূপ বসানো হচ্ছে। গোদাগাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শান্ত কুমার মজুমদার বলেন, পদ্মা ও মহানন্দাকে বাঁচাতে ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বাড়াতে হবে। নাগরিক কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি বিশেষজ্ঞ দল যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফাইল বন্দি রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস