সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা, কনসালট্যান্ট, মেডিকেল কর্মকর্তা ও সার্জন মিলে ১৭ জনের স্থলে রয়েছেন ৮ জন। মূলত ২ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে ৪ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।
জনবলের তালিকা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ৯টিই শূন্য। এনেস্থিসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১ জন, মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১ জন, মেডিকেল অফিসার ২ জন ও নবসৃষ্ট সহকারী সার্জন ৫ জন মিলে ৯ টিই শূন্যপথ হিসেবে রয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন ডা. সুরাইয়া শারমীন। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন ডা. অনেষা রায়।
এ ছাড়াও নার্সিং সুপারভাইজারের ১টি পদ শূন্য। সিনিয়র নার্স ১৪ জনের মধ্যে ৫ টি শূন্য, ৩ জন প্রেষণে কর্মরত। চিকিৎসা সহকারী ১০ জনের মধ্যে ৫ জন প্রেষণে কর্মরত। ল্যাবের মেডিকেল টেকনিশিয়ান ১ জন ও ডেন্টাল বিভাগের মেডিকেল টেকশিয়ান একজন প্রেষণে কর্মরত আছেন। পরিসংখ্যানবিদের ১টি পদ শূন্য। অফিস সহকারীরও ১ টি পদ শূন্য রয়েগেছে। সহকারী সেবক ১, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ২, স্বাস্থ্য সহকারী ৬, নৈশ প্রহরী ১ ও ঝাড়ুদারের ৫টি পদের মধ্যে ৪টিই শূন্যপথ হিসেবে রয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে।
আবাসিক চিকিৎসক শিমুল তালুকদার জানান, চিকিৎসক সংকটে উপজেলার ৪ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বহির্বিভাগ, আন্তঃবিভাগ, ভর্তিকৃত রোগী সবই তিনি ও ডা. আশিফ মাহমুদকে সামলাতে হচ্ছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ২৬০ থেকে ৩৬৫ জন, আন্তঃবিভাগে ৩৫ থেকে ৫০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। এছাড়া জরুরি বিভাগে ৮০ থেকে ১২০ জন রোগী প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন। বিপুল সংখ্যক রোগীর স্বাস্থ্য সেবায় মূলত ২ জন চিকিৎসককে প্রতিনিয়ত দৌড়াতে হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা জয়গন বেওয়া, ছাবিহা খাতুন, শিরিন পারভিন, শাকিল হাসান, শাহালম ফকির অভিযোগ করেন, চিকিৎসক কম থাকায় বেশিরভাগ রোগীদের আসা মাত্র শহরে স্থানান্তর করে দেওয়া হয়। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষরা শহরের ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প প কর্মকর্তা ডা. এহিয়া কামাল জানান, চিকিৎসক সংকটের কথা ইতোমধ্যে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকে অবগত করা হয়েছে। তিনি চাইলে দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে। অন্যান্য সমস্যা সমাধানেও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসএস
