গৌরনদীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঘর উত্তোলন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ২২:৫২

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৃহস্পতিবার সকালে বরিশালের গৌরনদীতে এক শিক্ষক দম্পতির বাড়ির সম্পত্তি দখল করে  জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেছে মনতোষ দাস নামের প্রভাবশালী এক মৎস্য ব্যবসায়ী।  এ সময় ঘর উত্তোলনে বাধা দিলে দখলদারদের হাতে পুলিশ সদস্যরাও লাঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বাটাজোর হরহর গ্রামের শিক্ষক মুজিবর রহমান ২০১২ সালে মতিয়ার রহমানের কাছ থেকে গৌরনদী উপজেলার হরহর মৌজার ২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই থেকে ওই জমিতে তিনি ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন যাবত ওই বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় একই গ্রামের প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ী মনতোষ দাস (৫৩)।

শিক্ষক মুজিবর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৭ জানুয়ারি সকালে মনতোষ দাস তার দলবল নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে সশস্ত্র মহড়া দেয় এবং বাড়ি দখলের চেস্টা চালায়। ওই সময় শিক্ষক মুজিবর বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জমির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। বিচারক গত ২১ জানুয়ারি (২০১৮) সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। একইসাথে জমির স্কেচম্যাপ, মালিকানা ও দখল বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তৎকালীন গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)কে নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ পেয়ে ওসি মো. মনিরুল ইসলাম গত ২২ জানুয়ারি মনতোষ দাসকে আদালতের বরাত দিয়ে লিখিতভাবে জমিতে প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। ওসি শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে নোটিশ দেন এবং ২৭ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে জমির মালিকানা শিক্ষক দম্পত্তি বলে উল্লেখ করেন ওসি।  

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন জানান, বৃহস্পতিবার খুব ভোরে ৫০/৬০ সন্ত্রাসী লাঠিসোটা ও ধারাল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাঠের ফ্রেম করা ঘর তৈরীর সরঞ্জাম এনে জোরপূর্বক ঘর তুলতে শুরু করেন মনোতোষ ও তার লোকজন।

শিক্ষক মুজিবর রহমানের স্ত্রী বাটাজোর অশ্বনী কুমার হাইস্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হাসিনা আক্তার(৪২) অভিযোগ করেন, আদালত ও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে মনতোষ দাস, তার পুত্র মিঠুন দাস(২৯) বিধান দাস(২৬)র নেতৃত্বে ৫০/৬০ সন্ত্রাসী  ধারাল অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ঘর উত্তোলনের শুরু করে। এ সময়  আমার স্বামী মজিবুর রহমান, পুত্র নাহিদ হাসান ঘর তুলতে বাধা দিলে তাদের পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্তলে পৌছে সন্ত্রাসীদের ঘর তুলতে বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা পুলিশ সদস্যদেরকেও  লাঞ্চিত করে।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের ২৮ আগষ্ট মনতোষ দাস ও তার পুত্ররা একইভাবে আমাদের সম্পত্তি থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকার গাছ কেটে নিয়ে গেছেন।

দখলদার মনতোষ দাসের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কারো জমি দখল করি নাই। দুই বছর আগে ওই জমি কিনেছি এবং সেই জমিতেই ঘর তুলছি।

গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস,আই) মো. মুজাহিদ এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার সামনে পুলিশকে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেনি। নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম বলেন, থানায় অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি, লিখিত পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু