মালয়েশিয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও তাঁর স্ত্রীর ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শনিবার দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে একথা জানায়। নাজিব রাজাক সরকারের এই নির্দেশ মেনে চলবেন বলে এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন।
শনিবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটি কাটাতে দেশের বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, নাজিবের এমন মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরই তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার খবর আসে বলে জানা গেছে।-খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, নাজিব রাজাক ও তাঁর স্ত্রী রোসমাহ মানসুরকে দেশত্যাগে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে দেশটির নতুন সরকারের তদন্তের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নাজিব রাজাক।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসার পর এক টুইট বার্তায় নাজিব বলেন, আমি জানতে পেরেছি আমি ও আমার পরিবারকে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশের বাইরে যেতে অনুমতি দেবে না। আমি এ নির্দেশনাকে সম্মান জানাই। পরিবারসহ আমি দেশেই অবস্থান করবো।
টুইটারে নাজিব আরো বলেন, চার দশক ধরে রাজনীতি করা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচার শেষে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আমি স্বল্প সময়ের বিরতি নিতে চাই। আমি নিজের ভুল ও ব্যর্থতার জন্য সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশাকরি, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের এই বিভেদজনক সময় একদিন শেষ হয়ে যাবে।
After over four decades in politics and the recent election campaign, which was regrettably personal and perhaps the most intense in Malaysian history, I will take a short break to spend time with my family whom I have not seen enough of in recent years.
— Mohd Najib Tun Razak (@NajibRazak) May 11, 2018
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নাজিবের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল ওয়ানএমডিবি থেকে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ আছে। তবে তাঁর অ্যাকাউন্টে এই অর্থ সৌদি আরবের রাজ পরিবার সম্পর্কের খাতিরে জমা দেয় বলে সেসময় দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন। পরে নাজিবকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর্থিক কেলেঙ্কারির এই অভিযোগে ২০১৫ সালের আগস্ট মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী নাজিবের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে মালয়েশিয়া।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
