ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের কুতুবপুর (হাসনপুর) গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মহির উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় বুধবার (৩০মে) আসামি ও সাক্ষীদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে তারাটি দাখিল মাদ্রাসার উত্তেজিত ছাত্র, শিক্ষক ও জনতা।
নিহত মহির উদ্দিনের ভাই হাসিম উদ্দিন জানান, সিধলা ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক মহির উদ্দিন গত শুক্রবার (২৫মে) রাত ১০টার সময় একটি ট্রলিতে করে মাছ নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই গ্রামের আফম আলী সরকারের ছেলে সাইদুল সরকারের বাড়ীর সামনের পৌছুলে সাইদুল সরকার বাঁধা দেয়। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা মীমাংসাও হয়। এরপর সাইদুল সরকার বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে ঘটনা মীমাংসার কথা বলে মহির উদ্দিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে চলে যায়।
গুরুতর আহত মহির উদ্দিনকে বাড়ির লোকজন প্রথমে মযমনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (২৮ মে) রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মহির উদ্দিন পাশ্ববর্তী তারাকান্দা থানার তারাটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি ৪ কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তার ছোট মেয়ের বয়স মাত্র ৪ মাস।
আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ঘরের মালিক এবং মামলার স্বাক্ষী মোফাজ্জল হোসেন জানান, বুধবার নিহত মাদ্রাসা শিক্ষক মহির উদ্দিনের জানাজা অনুষ্ঠানের ঠিক আগে জানাজা পড়তে আসা মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক সহ ৬০/৭০ জন অতর্কিতে আসামি সাইদুল সরকার, এরশাদ আলীর বসত ঘর, স্বাক্ষী মৌলভী বাড়ির মমতাজ উদ্দিন, এনায়েত হোসেন, মীর হোসেন, মোফাজ্জল হোসেনের ৬টি বসত ঘরে আগুন দেয়।
এ ছাড়া গনি মিয়া, ইয়াকুব আলী, আনুয়ার হোসেন, সোলায়মান মোফাজ্জল, আবুর কাশেম সাইদুল, রুহুল আমীন, এবং আঃ ছালামের বাড়ী ঘরে আগুন ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ করেন আবুল কাশেম ভূলন।
খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহমেদ জানান, নিহত শিক্ষক যে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন সেখানের শিক্ষক, ছাত্ররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় কোনো মামলা হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত। অপর দিকে নিহত শিক্ষক মহির উদ্দিনের ভাই বাদী হয়ে ৭ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ইত্তেফাক/নূহু
