নড়াইলে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশের বাঁশবাগানে ফেলে দেয়া সেই বৃদ্ধা মা হুজলা বেগমকে (৮৬) অবশেষে বাড়িতে ফিরিয়ে নিল তার সন্তানেরা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে গতকাল বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে হুজলাকে বাড়িতে নিয়ে যান তার ছেলে বাবু শেখসহ অন্য সন্তানেরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জসিম উদ্দিন হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা যায়, বয়োবৃদ্ধ মা হুজলা বেগমকে ভরণ পোষণ দিতে পারবেন না, এমন অজুহাতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ি গ্রামে রাস্তার পাশে বাঁশবাগানে মাকে ফেলে দেন মেঝো ছেলে বাবু শেখ ও তার স্ত্রী। তবে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় বাঁশবাগান থেকে উদ্ধার করে ওইদিন ভোরে হুজলার নাতবউ তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। হুজলা বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী সামাদ শেখ মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েরা আলাদা সংসার শুরু করেন। আর হুজলা বেগম বিভিন্ন সময়ে ছেলে ও মেয়েদের সংসারে জীবনযাপন করে আসছিলেন। কিন্তু, হঠাৎ করে মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কে নেবেন, এ বিষয়ে সন্তানদের মধ্যে মত-বিরোধের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো সন্তানই তার মাকে তাদের সংসারে ঠাঁই দিতে চায়নি। এক পর্যায়ে হুজলাকে বাঁশবাগানে ফেলে দেয়া হয়।
এ বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় হুজলা বেগমকে উদ্ধার করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বুধবার (৩১ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে হুজলাকে বাড়িতে নিয়ে যান তার ছেলে বাবু শেখসহ অন্য সন্তানেরা।
এ বিষয়ে নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, হাসপাতালের বেডে শুয়ে হুজলা বেগম বারবার বাড়িতে ফেরার আকুতি করছিলেন। এ ক্ষেত্রে তার সন্তানেরাও আমাদের কাছে মাকে যথাযথ ভাবে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর যদি তার সন্তানেরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/কেআই
