নাটোরের গুরুদাসপুরে ফসলি জমি নষ্ট করে চলছে একের পর এক পুকুর খনন। এতে গত এক দশকে উপজেলার ১০টি বিলের প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি কমেছে।
গুরুদাসপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পুকুর খননের কারণে উপজেলা জুড়ে কমেছে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর ফসলি জমি। তথ্যমতে, ২০১১ সালেও গুরুদাসপুর উপজেলা জুড়ে ফসলি জমির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৯ হেক্টর। ঐ সালে কমেছে ৭০ হেক্টর, ২০১২ সালে ৮০ হেক্টর, ২০১৩ সালে ৯৫, ২০১৪ সালে ১০৫, ২০১৫ সালে ১২০, ২০১৬ সালে ১৩০, ২০১৭ সালে ১১৫ হেক্টর এবং ১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি কমেছে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১ জুন প্রকাশিত জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ২০০১-এর গেজেটে (১৭.১) বলা হয়েছে, কৃষি জমি যতটুকু সম্ভব কৃষি কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কৃষি জমির প্রকৃতিগত কোনো পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু এ নীতিমালা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। উপজেলার হাঁড়িভাঙ্গা বিল জুড়ে এখন চলছে পুকুর খনন। এছাড়াও চাপিলার কয়েকটি বিল, চাকলের বিল, ধারাবারিষার বিল, হাঁসমারি, মশিন্দা বিলসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় সব বিলেই অবাধে চলছে পুকুর খনন।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. হারুনর রশিদ বলেছেন, এভাবে নির্বিচারে ফসলি জমি বিনষ্ট করে পুকুর খনন করায় মারাত্মক ফসলহানি হচ্ছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্বিচারে পুকুর খনন করায় উপজেলা জুড়ে আশঙ্কাজনক হারে কমছে ফসলি জমি। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, পুকুর খনন বন্ধে প্রশাসন অভিযান অব্যহত রেখেছে।
