পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এবার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হয়েছে সরিষা। বন্যার পানি নেমে যাবার পর ইরি ধানের চারা রোপণের পূর্বে এখানকার জমিতে বপন করা হয় সরিষার বীজ। সরিষাগাছ বড় হবার পাশাপাশি এর মাথায় ফোটে হলুদ ফুল। আর এ ফুল মধু উত্পাদনের প্রধান উত্স। এ সময় মৌচাষিরা সরিষাখেতে শুরু করেন কৃত্রিম মৌ চাষ। তারা এখন মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরিষাখেতের ফাঁকা জমিতে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে প্রায় হাজারখানেক মৌমাছির বাক্স। দিনের বেলায় মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে মৌ সাজায়। এক সপ্তাহের মধ্যেই মধুতে ভরে ওঠে মৌচাক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১ হাজার বাক্স বসিয়ে ১০০ মণ মধু উত্পাদন করেছেন মৌচাষিরা। তারা প্রতি কেজি মধু বিক্রি করছেন ২৫০ টাকা করে। এ উপজেলা থেকে মৌচাষিদের এক মাসে প্রায় ৩০০ মণ মধু সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।
টাঙ্গাইল থেকে আসা মৌচাষি ঝুমুর আলী বলেন, তার খামারে ৭৫টি বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্স থেকে ১৫ দিনে প্রায় ১১ মণ মধু উত্পাদন হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, মৌ চাষ করলে কৃষকরা লাভবান হয়। মৌমাছির মাধ্যমে সরিষার ফলন প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।
